নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময় নাশকতার অভিযোগ এনে পল্টন ও মতিঝিল থানায় পুলিশের দায়ের করা তিন মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ইসলাম আলমগীরকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলাগুলোতে অভিযোগ গঠন না করা পর্যন্ত জামিনের মেয়াদ থাকবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে ফখরুলের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘মামলাগুলোতে এর আগে মির্জা ফখরুলকে রুলসহ জামিন দিয়েছিল আদালত।’
তিনি বলেন, ‘রুল অ্যাভস্যুলেট করে আজ এ আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফখরুল ইসলামের জামিনের মেয়াদ এ মামলার অভিযোগ গঠন না করা পর্যন্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন লিওন।’
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল এ তিন মামলার মধ্যে এক মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অপর মামলায় কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন আদালত। আজ সে রুল অ্যাভস্যুলেট করে তাকে তিন মামলাতেই জামিন দেয়া হয়েছে।
তার আগে গত ১২ এপ্রিল রোববার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন লিওন হাইকোর্টে মির্জা ফখরুলের পক্ষে জামিন আবেদনগুলো করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরিকল্পনা অনুযায়ী পল্টন এলাকায় হরতালের সময় গাড়ি ভাঙচুর করেন বিএনপির পিকেটাররা। এজন্য ফখরুল ইসলামসহ ২৪ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন পল্টন থানার পুলিশ।
এছাড়াও নাশকতার কাজে উসকানি, প্ররোচণা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পল্টন এলাকায় হরতালের মাঝে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গত ৪ জানুয়ারি মতিঝিল ও পল্টন থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। আর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি একই অভিযোগ এনে পল্টন থানায় অপর দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।
কোন কোন গ্রাউন্ডে ফখরুলকে জামিন দেয়া হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘আমরা আদালতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছি, আদালত এটি বিবেচনা করে তাকে জামিন দিয়েছেন।’

