নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে জনবল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ২৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আটটি পদের মধ্যে চারটি শূন্য ছিল। এর মধ্যে চলতি বছরের ৭ জুন থেকে ওই চার জনের মধ্যে তিন কর্মকর্তা অন্যত্রে চলে যাওয়ায় বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সাতটি পদ শূন্য রয়েছে। একজন কর্মকর্তাকে দিয়েই চলছে অফিসের কার্যক্রম।
এদিকে, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সাতটি পদ শূন্য থাকায় উপজেলার ২১৭টি সরকারি ও ৪২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১২শ’ শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ করতে এসে বিপাকে পড়ছেন। একইসঙ্গে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক বদলী, শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সমস্যা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর ওপর।
হাতিয়া দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানে যোগদান করার কিছু দিন পর কর্মকর্তারা অন্যত্রে বদলী হয়ে যান। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ভবরঞ্জন দাস সাতটি পদ শূন্য থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, শূন্য পদের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। লোকবল কম হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

