নিজস্ব প্রতিবেদক : অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ অনেকের বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে এবং তাদেরকে নাস্তিক দাবি করে এবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানালো আওয়ামী ওলামালীগসহ সমমনা ১৩ দল।
প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে কটূক্তি এবং ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর কথা বলার অভিযোগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ১৩ দলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে তারা যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ফাঁসি অবিলম্বে বাস্তবায়নসহ মোট ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘এদেশে প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবি ও মুক্তমনার লেবেলে নাস্তিক্যবাদকে ব্যপক পৃষ্টপোষকতা দেয়া হচ্ছে। নাস্তিকরা অনলাইনসহ সব জায়গায় প্রকাশ্যে ইসলামধর্মের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।’
তারা বলেন, ‘সম্প্রতি সজিব ওয়াজেদ জয় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায়, তার বিরুদ্ধে ড. জাফর ইকবালসহ সমগোত্রীয়রা বিষোদ্গার করেছেন।’
বক্তারা জাফর ইকবালকে শাবি থেকে বহিস্কারসহ ইসলাম অবমাননাকারীদের দষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবিধানে পুনরায় আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘একমাত্র আওয়ামী লীগই সারাদেশের লিফলেট ও পোস্টারে এবং ভাষণ-বক্তৃতায় আল্লাহ সর্ব শক্তিমান লিখে থাকে। যা অন্য কোনো লেখে না। যেখানে এই দলের সব কিছুতেই এই বাক্যটি লেখা থাকে, সেই দলের মাধ্যমে আমাদের সংবিধানে পুনরায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করলে ধর্মপ্রাণ জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
এসময় বক্তরা রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় ভারতীয় টিভি চ্যানেলসহ অশ্লীলতা বন্ধ করা, মেয়েদের বিয়ের কোনো বয়স নির্ধারণ না করা, ঈদের ছুটি ৭ দিনে বর্ধিত করা, ঈদের পোশাকে ভারতীয় নায়ক-নায়িকাদের পোশাকের প্রভাব ও আমদানি বন্ধ করা, রমজান মাসে সারাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, ভারতে মুসলমানদের সূর্যপূজা করতে বাধ্য করায় সরকারিভাবে এর প্রতিবাদ জানানো, চাকুরির নিয়োগের ক্ষেত্রে মুসলমানদের আনুপাতিকহার চালু করা, বাংলাদেশে এসে ভারতীয় নায়ক-নায়িকা এবং গায়ক-গায়িকাদের অশ্লীলতা বন্ধ করা এবং বিএনপির ভারত দালালির প্রতিবাদসহ ১৩ দফা দাবি উত্থাপর করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা মুহম্মদ হুসাইন বুখারী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

