নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। এজন্য বর্তমান সরকার সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।
বুধবার ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় মুকসুদপুর শামসুদ্দিন শিকদার উচ্চ বিদ্যালয় প্রঙ্গণে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজকের শিশুরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত বিশ্বের সারিতে দাঁড় করাবে। এলক্ষ্যে সরকার বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, বিগত ৬ বছরে প্রায় ১ লাখ শিক্ষক নিয়োগ, নতুন নুতন অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করেছে। শিশুদের লেখাপড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে বছরের শুরুতে বিনা মূল্যে ৪ রঙের নতুন বই সরবরাহ করে চলেছে। এছাড়া খেলাধুলার জন্য মাঠ নির্মাণসহ খেলার সরঞ্জাম দেয়া হচ্ছে। শিশুদের পুষ্টিমান বৃদ্ধি করতে মিড ডে মিলসহ উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ বিস্কিট সরবরাহ করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে। এখন শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ১৮ মাসব্যাপী ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন কোর্স চালু করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাকে বিশ্বমানের করে তুলতে দেশে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যামান ৫৫টি পিটিআইয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পিটিআইবিহীন আরো ১২টি জেলায় ১২টি পিটিআিই নির্মাণ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। রাজধানীতে ১০তলা বিশিষ্ট পিটিআই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে এক জেলার শিক্ষকদের আর অন্য জেলায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করাসহ সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল একধাপ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একজন মা-ই সন্তানের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তাই সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে মায়েদের গুরুত্ব অপরিসীম। মা-সহ সব অভিভাবকদের শিক্ষার প্রতি সচেতন হতে হবে। মা, অভিভাবকসহ সবাইকে শিক্ষার প্রতি সচেতন করে গড়ে তোলার জন্য আজকের এ সমাবেশের মূল লক্ষ্য।’
এসময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আইন-শৃংখলা রক্ষা এবং মাদক নিরোধ ও প্রতিরোধের জন্য কঠোর হতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেন। এজন্য তিনি জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্যও নির্দেশ দেন।
এ সমাবেশে বক্তৃতা করেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, ইন্সপেক্টর জেনারেল আব রেজিস্ট্রেশন খান মো. আব্দুল মান্নান পিএইচ ডি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর, ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক শাহ সুফি আলী রোজা, ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিনারা বেগম।

