ঢাকাThursday , 11 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোবটের মিলনমেলা

Link Copied!

droneতথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের নিচতলার অডিটরিয়ামে ঢুঁকতেই একজন হাত তুলে সালাম দিল। সঙ্গে কিছু একটা বললোও। তবে তা নিচুস্বরে। তাই স্পষ্ট শোনা গেলো না। সে হয়তো ব্যাপারটা আঁচ করতে পারলো। তাই সে খানিকটা এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিলো। তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করতে ভালোই লাগলো। য্ন্ত্র মানুষের কায়দা-কানুন ভালোই রপ্ত করতে পেরেছে। বলছি ‘হিউম্যানয়েড‘ নামের একটি রোবটের কথা। এই রোবটটি তৈরি করেছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবন নিয়ে এখানে আজ সকাল থেকে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনের উদ্যোক্তা ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।
হিউম্যানয়েড রোবটি তৈরির সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনুল। তিনি মেকানিক্যাল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মাইনুল জানান, এই রোবটি মূলত আপদকালীন সময়ে কাজে লাগানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটাতে আছে শক্তিশালী ক্যামেরা। রেডিও ফিকোয়েন্সির মাধ্যমে সে লাইভ ফিড সরবরাহ করতে পারে। ফলে দূর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একে পরিচালনা করা খুব সহজ। বোমা নিস্ক্রিয় করার জন্য এটাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রোটোটাইপ এই রোবটি তৈরি করতে মাত্র ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
এটির উদ্ভাবকরা জানান ভবিষ্যৎতে এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করা হবে। ফলে রোবটি নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সামিটে অ্যানড্রয়েড ফোন চালিত স্মার্ট হুইল চেয়ার নিয়ে হাজির হয়েছে। এই হুইল চেয়ারটি মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এটাকে খুব সহজেই পরিচালনা করা যাবে। চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুটি কোনো বিপদে পড়লে তাৎক্ষনিকভাবে তার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে।
স্মার্ট হুহল চেয়ারটির উদ্ভাবনী দলের অন্যতম সদস্য তরুণ দেব নাথ বলেন, ‘এই ধরনের চেয়ার বিদেশ থেকে আমদানী করতে গেলে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।‘
এদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির(বুয়েট) দুই শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন চমকে দেয়ার মত। আবিদ এবং ইমরান নামের ঐ দুই শিক্ষার্থী পড়েন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রোন্ক্সি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তারা মাইন্ড কন্ট্রোলার নামের একটি বায়োনিক হাত তৈরি করেছেন। ঐ হাতটি মানুষের হাতের মতই সব কিছু ধরতে পারে।
আবিদ জানান, দুর্ঘটনায় আমাদের দেশে অনেক মানুষের হাত কাটা পরে। তাদের কথা চিন্তা করেই এটা তৈরি। এটার সঙ্গে আছে হেডসেট। এই হেডসেট ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে বায়োনিক হাতের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখে। অন্যদিকে হেডসেট ইইজি‘র মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মনের গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে। এটি তৈরি করতে তাদের খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা।
সিলেটের মেট্রোপলিট্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ বেশ কয়েকটি কোয়াড কপ্টার ও অক্টা কপ্টার তৈরি করে নিয়ে এসেছে। তাদের একটি দল আনম্যান সাবমেরিন নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে। এটি পানির নিচে তথ্য সংগ্রহের জন্য বেশ কাজের। কেননা, এটিতে বেশ কয়েকটি ক্যামেরা রয়েছে। এই ক্যামেরা হারের মাধ্যমে ভিডিও চিত্র সরবরাহ করতে পারে।
এই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ রেজওয়ানুল হক।তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে ড্রোন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, বর্তমান সময়ে ড্রোনের ব্যবহার বেড়েছে। বাংলাদেশেও ড্রোনকে জনপ্রিয় করার জন্য তারা কাজ করে যাচ্ছে।
মেট্রোপলিট্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি। এসব কাজে লাগিয়ে মানুষ যেনো তার দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার সমাধান করতে পারে।
সামিট উপলক্ষ্যে এখানে রোবট এবং ড্রোন নিয়ে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব নিয়ে দিনভর মেতে থাকেন। একে অপরের সঙ্গে তারা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি ভাগাভাগি করেন। তাদের এ কাজে উৎসাহ যোগান সহপাঠী এবং শিক্ষকরা।
সামিটির আয়োজক কমিটির দলনেতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আরাফ রায়হান বলেন, ‘এবারে সামিট দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়োজন। এখানে ৫০ টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০ টি স্কুল-কলেজের ২০০টি দল তাদের নতুন উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নিয়েছেন। অংশ নেয়ার দলের মধ্য থেকে সেরা কয়েকটি দলকে দিন শেষে বিজয়ী করা হবে।’