স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ধারাবাহিকতাটা শুরু। যেন স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে, টি২০ এবং টেস্টে বিধ্বস্ত করার পর বিশ্বকাপ মিশন। সেখানেও মিলেছে স্বপ্নের দেখা। অসাধারণ পারফরম্যান্স করে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। টিম স্পিরিট কাকে বলে দুর্দান্তভাবে দেখাতে পেরেছিল মাশরাফি অ্যান্ড কোং। যদিও বিতর্কিত কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
বিশ্বকাপের পর এলো পাকিস্তান সিরিজ। যে দলটি বাংলাদেশের সামনে গত ১৬টি বছর ছিল অজেয়। তাদেরই কি না নিজেদের মাটিতে রীতিমত বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ; ওয়ানডে এবং টি২০তে। এরপর টেস্ট সিরিজেও অসাধারণ লড়াই করেছিল মুশফিক বাহিনী।
বাংলাদেশ যে ভালো করছে, নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করছে তার চাক্ষুস প্রমান এগুলো। তবে বিশ্বকাপ বলুন আর পাকিস্তান সিরিজ বলুন- ওইগুলো ছিল অর্জনের। এবার প্রমান করার পালা, সত্যি সত্যি বাংলাদেশ ক্রিকেটে একটি শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য ভারতের বিপক্ষেই মঞ্চ প্রস্তুত করে নিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
ফতুল্লাহর খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে আগামীকাল (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত একমাত্র ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এই ম্যাচটিকে সামনে রেখেই আজ ফতুল্লায় অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়গুলোতে আমরা ভালো খেলছি। আমরা যে ভালো কিছু করছি, ভালো ক্রিকেট খেলছি- সত্যিকারার্থে তার প্রমান দেওয়ার সময় এসে গেছে। ভারতের বিপক্ষেই সেই চ্যালেঞ্জটার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা।’
শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য কী করতে হবে? জানতে চাইলে মুশফিক বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো ব্যাটসম্যানদের। মূলতঃ তাদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আমার নিজেরও ভারতের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে। ওই সেঞ্চুরিটিই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।’
ভারতের বিপক্ষে মূল লক্ষ্যটা আসলে কী? জানতে চাইলে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সব সময়ই জয়ের জন্য খেলতে নামি। কখনও ভিন্ন কোন লক্ষ্য থাকে না। যদিও এটা টেস্ট ম্যাচ। ওয়ানডে কিংবা টি২০’র চেয়ে ফরম্যাট ভিন্ন। সুতরাং এখানে আমাদের মূল লক্ষ্যই থাকবে যেভাবেই হোক ড্র করা। সবচেয়ে বড় কথা আমরা টেস্টটার ৫দিনই খেলতে চাই এবং প্রতিটা দিনই ভালো খেলতে চাই।’
৯ বছর আগে- ২০০৬ সালে এই মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে অসাধারণ একটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের সাড়ে তিনদিনই প্রাধান্য ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু শেষ দিকে এসে অসি পেসার জ্যাসন গিলেস্পির ডাবল সেঞ্চুরির কারণে ম্যাচটি জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ওই মাঠেই ৯ বছর পর আবার টেস্ট ম্যাচ এবং প্রতিপক্ষ ভারত। ৯ বছর আগের সেই ঘটনাই এখন বেশ অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে টিম বাংলাদেশকে।
তবে দীর্ঘদিন পর এই মাঠে টেস্ট খেলতে এসে কিছুটা হলেও চিন্তিত অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বিশেষ করে উইকেট নিয়ে। কারণ, উইকেটে কিছুটা ঘাস রয়েছে। এই কন্ডিশনে দলের কম্বিনেশনটা কেমন হবে এখনও ঠিক করেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক জানালেন, ‘টিম কম্বিনেশন নিয়ে এখনও ভাবিনি। তিনজন পেসার খেলাব নাকি দুইজন খেলাব- সেটা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেই ঠিক করব। তবে যে কম্বিনেশনই হোক, প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার সামথ্য রয়েছে আমাদের।’
বিরাজমান অত্যধিক তাপমাত্রা এবং গরম আবহাওয়া একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। মুশফিকুর রহিম বলেন, গরমের এই চ্যালেঞ্জ আমরা জয় করতে চাই। এটা যেহেতু প্রাকৃতিক, দুই দলের জন্যই বিষয়টা সমান। আমাদের জন্য যা হবে, তাদের জন্যও তা হবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে টস জিতেও ফিল্ডিং নেওয়ায় বেশ সমালোচনা শুনতে হয়েছিল মুশফিককে। এবারও তাই ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন- টস জিতলে কী করবেন? জবাবে মুশফিক বলেন, ‘টস নিয়ে এখনও ভাবিনি। আসলে ব্যাপারটা বেশ কঠিন। আমরা যদি টস জিতি আর প্রথমে ব্যাটিং নিই- তখন দেখা গেলো উইকেটে ঘাস থাকার কারণে ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে পারলো না, তিনদিনেই টেস্ট হেরে গেলো- তখন তো ভিন্নভাবেই সমালোচনাটা হবে। তবে সমালোচনার দিক চিন্তা করে নয়, আমরা খেলার সার্বিক পরিস্থিতির ওপর চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেবো।’
ভারতের নতুন অধিনায়ক। তরুন দল। এদের বিপক্ষে পরিকল্পনাটা কিভাবে করছেন জানতে চাইলে কোহলি বলেন, ‘নতুন হলেও কোহলি তো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আর নেতৃত্ব পাওয়ার পর কোহলি ব্যাট হাতে যেন আরও বেশি দুর্দান্ত হয়ে উঠেছেন। তার এই দিকটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। এটাকে মোকাবেলা করাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’
ভারতের বিপক্ষে উইকেটকিপিং যে করবেন না আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবুও এলো প্রশ্নটা। জবাবে মুশফিক বললেন, ‘হাতের আঙ্গুলে এখনও ব্যাথা আছে। মনে হয় না কিপিং করতে পারবো। সে ক্ষেত্রে নতুন কারও অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

