নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় হাটহাজারী থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করেছে সংঘর্ষে লিপ্ত দুই পক্ষই।
রোববার সন্ধ্যায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দু’টি দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ওসি ইসমাইল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শনিবার ছাত্রলীগের দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দু’র্টি পক্ষই ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক মামলা দায়ের করে। এতে একাকারের ৭জন ও কনকর্ডের ১০জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।’
থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও কনকর্ড গ্রুপের নেতা নাজমুল এর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দেন সাবেক সহ সম্পাদক আব্দুল মালেক। এতে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা করে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু থানায় ওসি না থাকায় তখন মামলা রেকর্ড করা হয়নি। পরে ওসি আসলে মামলাটি রেকর্ড হয়।
কনকর্ড গ্রুপের নেতা নাজমুলের পক্ষে আব্দুল মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তারা হলেন-একাকার গ্রুপের সাবেক উপ দফতর সম্পাদক ইমাদ আহমেদ সাহিল, পরিসংখ্যান বিভাগের মঈনুল হাসান রাসেল, অর্থনীতি বিভাগের পারভেজ, ইংরেজী বিভাগের আসিফ, রাজন ভৌমিক, আইইআরটি ইনস্টিটিউটের বিল্লাল উদ্দিন বিল্লাল, বাংলা বিভাগের মাসুদ।
মামলার এজেহারে বলা হয়, শনিবার ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালীন হত্যার উদ্দেশ্যে এক নম্বর আসামীর নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুলকে ধাওয়া দেয়। পরবর্তীতে দুই-সাত নম্বর আসামীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে।
অপরদিকে বিলুপ্ত কমিটির সদস্য ও একাকার গ্রুপের নেতা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে কনকর্ডের ১০ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ধ্যায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- কনকর্ড গ্রুপের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ সম্পাদক আনোয়ারুল আলম রকি, সদস্য সাজিদুর রহমান, ইতিহাস বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাহি ও ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল।
প্রসঙ্গত গত শনিবার ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন একাকার ও কনকর্ডের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুলসহ সাতজন আহত হয়। পরে পুলিশ শাহ আমানত ও শাহ জালাল হলের সামনে থেকে উভয় গ্রুপের ১০ জনকে আটক করে। রোববার ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

