স্পোর্টস ডেস্ক : ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ত্রিমুকুট জিতলো বার্সেলোনা। ইউরোপের সেরা দল হয়ে ওঠা বার্সেলোনার রাজকীয় পথ চলার শুরু মূলত ২০০৫-০৬ মওসুম থেকে। সেবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। সেখান থেকে গত এক দশকে এই নিয়ে চতুর্থবার ইউরোপ সেরার মুকুট পড়লো ক্লাবটি।
জুভেন্তাসের সঙ্গে শক্তি-সামর্থ্যের পার্থক্যে অনেকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ধরে রেখেছিলেন বার্সেলোনাকে। তারপরও লড়াইটা যখন একটি ম্যাচের, শিরোপা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ‘যদি, কিন্তু’ তো একটা ছিলই। শনিবার রাতের বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অবশ্য কোনও অঘটন ঘটেনি, ৩-১ গোলের জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফেভারিট বার্সেলোনাই।
দলটির মূল কারিগর লিওনেল মেসি আর বহুদিনের অভিজ্ঞ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজরা এই সেলিব্রেশন আগেও করেছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু শ্রেষ্টত্বের মুকুট পরার আনন্দ তো প্রতিবারই একইরকম। চ্যাম্পিয়নদের কারও কারও জন্য এটা আবার ছিল একেবারে প্রথম স্বপ্নপূরণ।
নেইমার যেমন আগেই বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলতে পারাটাই তাঁর কাছে স্বপ্নপূরণের মতো। স্বপ্নের সেই মঞ্চে গোল করে রাজকীয় ঢঙেই ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্টের খেতাব জয়ের সেলিব্রেশন করলেন তিনি।
বার্লিনে ইতিহাস রচনার দিনে গোল পেয়েছেন লুইস সুয়ারেজও। তাঁর গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বার্সায় প্রথম মওসুমে এমন চমৎকার সাফল্য, তাতে আবার সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া।
ম্যাচ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুয়ারেজ বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য, এটা অনন্য। এই ট্রফিগুলো জিততে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। আপনি যখন বার্সার মতো একটা ক্লাবে আসবেন, তখন আপনি জানবেন যে এখানে আপনি জিততেই এসেছেন। একটা স্বপ্ন সত্যি হলো।’
গত বছর বার্সেলোনায় আসা গোলকিপার মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগান তো বুঝতেই পারছেন না, এই তাঁরা কি জয় করলেন। ইতিহাস গড়ে নিজের অনুভূতি এভাবেই জানালেন জার্মানির এই গোলকিপার। তিনি বলেন, ‘আজ কি হলো, আমি ভাষায় বোঝাতে পারব না, কিন্তু দলের জন্য আমি সত্যিই খুশি। ভালো একটা মরশুম আমরা কাটিয়েছি সাফল্যের সঙ্গে।’
এর আগে ২০০৮-০৯ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার অধীনে প্রথম ট্রেবল জিতেছিল বার্সেলোনা। সেবার দলটির সাফল্য ছিল আরও চমকপ্রদ; ওই বছরে সম্ভব ৬টি শিরোপার সবকটি জিতেছিল তারা।
এক বছরে ৬ শিরোপা! বিস্ময়কর সেই সাফল্যের পথে আরেকবার হাঁটার সুযোগ কিন্তু এবারও খোলা বার্সেলোনার সামনে। লা লিগা, কোপা দেল রের পর এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শ্রেষ্টত্ব। বছরের বাকি তিনটিও কেন নয়?
ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের সুযোগ রয়েছে বার্সেলোনার সামনে। বার্সায় নতুন সাফল্যের ইতিহাস রচনা হয় কিনা তার উত্তর দেবে সময়।

