ঢাকাSaturday , 6 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধের ভেতর খণ্ডযুদ্ধ

Link Copied!

messi-tevezস্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে লড়াইটা হয় দুই দলের ১১ জন করে ২২ জনের মধ্যে। তবে দলগত লড়াইকে ছাপিয়ে জমে উঠে কিছু ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাসের মধ্যকার ম্যাচে জমে উঠতে পারে তেমন তিনটি দ্বৈরথ। লিওনেল মেসি-প্যাট্টিক এভরা, ইভান র‌্যাকিটিক-পল পগবা ও হাভিয়ের মাসচেরানো-কার্লোস তেভেজ।
লিওনেল মেসি বনাম প্যাট্টিক এভরা: প্যাট্টিক এভরা হয়তো শুক্রবার রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেননি। পরের দিন যে লিওনেল মেসির আক্রমণ সামলাতে হবে এভরাকে। ঘুমের মধ্যে কী তিনি মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখতে পেয়েছেন?
শনিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে কঠিন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছেন জুভেন্টাসের ফরাসি ডিফেন্ডার প্যাট্টিক এভরা, হয়তো ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ তার জন্য অপেক্ষা করছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই তারকা। রোনালদো, বেল ও করিম বেনজেমাকে প্রতিহত করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি। এখন আরেকটি চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে তাকে।
গত মৌসুমে প্যাট্টিক এভরা যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইডেট ছেড়ে তুরিনের ক্লাব জুভেন্টাসে পাড়ি জমান তখন হয়তো তার পাঁড় ভক্তরাও কল্পনা করেননি যে এই ফরাসি তারকা এক বছরের ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলবেন। তবে শনিবারের ফাইনালে যদি মেসিকে নিস্ক্রিয় করতে না পারেন তবে হয়তো কঠিন সময়ের মুখোমুখি হবেন তিনি।
লিওনেল মেসির মতো বিশ্বসেরা খেলোয়াড়কে থামানোর দায়িত্ব প্যাট্টিক এভরার কাঁধে। মেসি এখন তার ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় পার করছেন। নিজের সেরা ফর্মে থাকলে এই আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর যে কী করতে পারেন সেমিফাইনালে সেটা টের পেয়েছে জার্মান দানব বায়ার্ন মিউনিখ। এইতো এক সপ্তাহ আগে কোপা ডেল রে’র ফাইনালে অতিমানবীয় গোল করে ফুটবলবিশ্বকে মোহিত করেছেনে এলএম টেন, যার রেশ এখনও কাটেনি। ফলে মেসির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বাত্মক সচেষ্ট থাকবে হবে এভরাকে।
ফাইনালে এভরাকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পাশাপাশি মাথাও ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কেননা, বার্সার আক্রমণে নাকাল হয়ে মাথা গরম করে যদি ডি বক্সের ভেতরে ফাউল করে বসেন, প্রতিপক্ষকে ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখেন বা পেনাল্টি উপহার দেন তবে সর্বনাশ হয়ে যাবে জুভেন্টাসের। আর রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে যদি মেসিকে নিস্ক্রিয় করতে পারেন তবে, তবে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস সমান পর্যায়ের দলে পরিণত হবে। তখন যেকোনো ফলাফলই সম্ভব।
ইভান র‌্যাকিটিক বনাম পল পগবা: বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ গত এক মৌসুম ধরে নিজের সেরা ফর্মে নেই। দলের অন্যতম সেরা এই তারকার অফ-ফর্ম বার্সেলোনাকে কোনো বিপদে ফেলতে দেয়নি। তার কারণ মিডফিল্ডে ইভান র‌্যাকিটিকের অসাধারণ পারফরম্যান্স। চলতি মৌসুমে অসাধারণ খেলা এই ক্রোয়েশিয়ান তারকার জন্য শনিবারের ফাইনালটি চ্যালেঞ্জকর ও চাপের হবে। তবে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সার্জিও বুসকেটসের উপস্থিতিতে তার ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমে যাবে, তিনি নির্ভার হয়েই খেলতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে।
বার্লিনের ফাইনালে দারূণ লড়াই জমে উঠতে পারে র‌্যাকিটিক ও পল পগবার মধ্যে। জুভেন্টাসের তরুণ মিডফিল্ডার পল পগবা ইতোমধ্যেই নিজেকে মিডফিল্ডে দুর্দান্ত এক যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘বিগ’ ফাইনালে ইভান র‌্যাকিটিক ও পল পগবা দুজনের সামনেই সুযোগ রয়েছে দারূণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আগামীর তারকায় পরিণত হওয়ার। নিজেদের প্রমাণের জন্য শনিবারের ফাইনালের মতো আদর্শ মঞ্চ আর কী-ই বা হতে পারে র‌্যাকিটিক ও পগবার জন্য!
কার্লোস তেভেজ বনাম হাভিয়ের মাসচেরানো: চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার হাভিয়ের মাসচেরানো ও জুভেন্টাসের কার্লোস তেভেজের মধ্যে দুর্দান্ত লড়াই জমে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ৯ বছর আগে ওয়েস্ট হ্যামে একসঙ্গে যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই দুই সতীর্থ। এরপর অনেক সময় পেরিয়ে দুজন আজ দুই দেশের দুই চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
হাভিয়ের মাসেচেরানো ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সেটা জাতীয় দলের হয়ে হোক কিংবা বার্সেলোনার হয়ে। শনিবারের ফাইনালে মাসচেরানোর ওপর যেমন মেসিদের বল জোগান দেয়ার দায়িত্ব থাকবে তেমনি তেভেজ ও আলভেরো মোরাতার আক্রমণ সামলানোর দায়িত্বও তার কাঁধে থাকবে।
মাসচেরানোর মতো কার্লোস তেভেজকেও একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রথমে তেভেজকে মাসচেরানোর পরীক্ষা নিতে হবে এবং পরবর্তীকে মাসচেরানো পেরিয়ে বুসকেটসকে পরাজিত করতে হবে। জেরার্ড পিকেও তো থাকবেন তার সামনে দেয়াল হয়ে।
শনিবারের ফাইনালে এক কার্লোস তেভেজই হুমকি হয়ে উঠতে পারেন বার্সেলোনার। গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে ভড়কে দিয়ে পারেন কাতালান ডিফেন্ডারদের। মাসচেরানো রক্ষণে নিজেকে যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তেভেজও লড়াকু সৈনিক। ফলে জমজমাট এক লড়াই হবে বলেই বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে একটায় বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে। বার্সেলোনা জিতলে প্রথম ইউরোপিয়ান ক্লাব হিসেবে দুবার ট্রেবল জয়ের রেকর্ড গড়বে। অন্যদিকে জুভরা জিততে প্রথমবারের মতো ট্রেবল জয়ের স্বাদ পারে তারা, এর আগে মোট সাতটি ক্লাব ট্রেবল জয়ের রেকর্ড গড়ে।