নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে সামনে রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘মোদির এ সফরে বাংলাদেশের জনগণের অনেক প্রত্যাশা আছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমরা আশা করছি এ সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, তিস্তা চুক্তিসহ সব সমস্যার সমাধান হবে। তার কাছে আমরা এ কমিটমেন্ট প্রত্যাশা করছি।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদত বার্ষিকী পালন উপলক্ষে শ্রমিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ছিটমহল চুক্তি সম্পাদন করতে ইন্দিরা ও কংগ্রেস সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার ব্যর্থ হননি।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদির বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রত্যাশা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক হবে। তবে আমার জানা মতে এখনো বৈঠকের সময়, দিন ও তারিখ ঠিক হয়নি। বৈঠকগুলোর বিষয়ে অনেক গোপনীয়তা আছে বলেও আমি জানি।’
নিজ দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আজ দুর্নীতিগ্রস্ত, রুগ্ন, কলুষিত, অরক্ষিত ও লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করি বের হয়ে আসতে পারবো। কারণ বিএনপিকে বিনাশ করা যায় না। জিয়ার আদর্শ নিয়েই আমরা আমাদের আগের অবস্থানে ফিরে আসবো।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে, বিএনপি পথ হারিয়েছে। তাদের এ কথা ঠিক। আসলেই বিএনপি পথ হারিয়েছে। কিন্তু আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে। আকাশের ধ্রুব তারাকে লক্ষ্য রেখে আমাদের পথ খুঁজতে হবে। কারণ ওই ধ্রুব তারাটি হচ্ছে জিয়াউর রহমান।’
বাংলাদেশ বর্তমানে চরম সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘১৯৭১ ও ১৯৭৫ সালেও বাংলাদেশে সঙ্কট এসেছিল। তখন জিয়াউর রহমান ছিল বলেই এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পেরেছিলেন। আজ ২০১৫ সালে আরেকটি সঙ্কট চলছে। কিন্তু আজ জিয়া নেই। জিয়া নেই বলে আমাদের হতাশ হলে চলবে না। তার আদর্শকে ধারণ করে এ সঙ্কটকে মোকাবেলা করতে হবে।’
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক জাফরুল হাসান, সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রমুখ।

