নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর এক সময়ের প্রতাপশালী রাজনীতিক মির্জা আব্বাসের সেই আগের অবস্থান এখন নেই। তিনি যেন দিনে দিন বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ছিল বিশাল কর্মী বাহিনী। এতোসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তার সংস্পর্শে যারা ছিলেন তারাও বেশ ফুঁলে-ফেঁপে উঠেছেন। সেসবই এখন যেন অতীত!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রাজধানী ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগর বিএনপিকে শক্তিশালী করতে খোকা-সালাম কমিটি বাদ দিয়ে আব্বাস-সোহেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিগত আন্দোলনে খোকা-সালাম এবং আব্বাস-সোহেল উভয় পক্ষই আত্মগোপনের কৌশল নিয়েছেন। রাজনৈতিক সহাবস্থানের চেষ্টায় দুই কমিটিই কার্যত ব্যর্থ।
বিএনপির কঠোর আন্দোলন এখন আর নেই তবুও নেতারা আত্মগোপনে। সেই আন্দোলন চলাকালেও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ যখন আসে তখন অনেক নেতাকর্মী গুলশানে গেলেও মির্জা আব্বাস যাননি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হলেও প্রকাশ্যে আসতে পারেননি। জামিন লাভের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব পালন করেছেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস।
অবস্তাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের রাজনীতি হলেও আফরোজা আব্বাস তার অবস্থান গড়ে নিয়েছেন। অবশ্য তখন অনেকের মুখে শোনা গেছে, নির্বাচনী প্রচারে নেমে আফরোজা আব্বাস সাধারণ মানুষকে যতোটা আকৃষ্ট করতে পেরেছেন, মির্জা আব্বাস হলে হয়তো ততটা পারতেন না। কারণ আফরোজা জনসাধারণের সঙ্গে যেভাবে মিশেছেন, আব্বাস হলে সেটা সম্ভব না। তিনি যেখানে যান সেখানে থাকে তার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী। ওয়াকিটকি, ইউনিফরম পরিহিতি নিরাপত্তা কর্মীরা। অনেকটা বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স বা সিএসএফের আদলে আব্বাসের নিরাপত্তা ফোর্স রয়েছে। কেউ কেউ একে রসিকতা করে এএসএফ বলে। তবে এ নির্বাচনে এএসএফ না থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা টিএসএফ দেখেছে!
জিয়াউর রহমানের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর দ্বিতীয় দিন রোববার আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে ঢাকার বিভিন্নস্থানে মিলাদ মাহফিল ও তবারক বিতরণ হয়েছে। দুপুর ২টায় ১২নং ওয়ার্ডে, আবুজার গিফারী কলেজের সামনে ফজলে রুবায়েত পাপ্পুর সভাপতিত্বে। ২টা ৩০মিনিটে ১নং ওয়ার্ড, খিলগাঁও মডেল কলেজের পিছনে হুমায়ুন কবির ও মাহবুবর রহমান এর বাড়ির সামনে, ৩টায় ৪নং ওয়ার্ড বাসাবো বালুর মাঠের সামনে আশরাফুর রহিমের সভাপতিত্বে
৩টা ৩০মিনিটে দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে তবারক বিতরণ করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সহসভানেত্রী ও মির্জা আব্বাসের সহধর্মীনি আফরোজা আব্বাস। এসময় তার সাথে ছিলেন- হুমায়ুন কবির, হাবিবা চৌধুরী বিথী, এস এম মুশফিকুর রহমান, হুমায়ুন কবির, নুরুল হক মোল্লা, মাসুদ আহমেদ, মাসুদ আহমেদ মিলন, মোনায়েম মুন্না, সুজন, কায়সার আপেল, রাসেল, মানিক, রাসেদ খান ও আদিত্য চৌধুরী প্রমুখ।
আব্বাস আত্মগোপনে যাওয়ায় দলের মধ্যে গুজব রয়েছে, আব্বাসের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এতোটাই ধস নেমেছে যে তার আসন থেকে মহিলা দলের প্রভাবশালী একজন নেত্রীকে নিয়ে অনেকে চিন্তা চলছে। তাই তিনি আত্মগোপনে থেকে আফরোজা আব্বাসকে সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন।

