নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগকে বেশ কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদের। ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটিকে নিজের প্রথম যৌবনের প্রেম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রথম যৌবনের প্রেমের নাম ছাত্রলীগ। এই চেহারায় ছাত্রলীগকে দেখতে চাই না। এটা শেখ হাসিনার ডিজিটাল ছাত্রলীগের চেহারা না। এই ছবি-চেহারা পরিবর্তন করতে হবে।’
শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আশা করি কমিটি ঠিক-ঠাক মতো হবে। স্লোগান দিয়ে কমিটি হবে না। সম্মেলনগুলো টাইমমতো করো। এই যে ট্রাফিক জ্যাম লেগে গেছে। অনেক কর্মী নেতা হতে পারে না। একটা জ্যাম হয়ে যায়। ডাকসুর আজকে ২২ বছর সম্মেলন নেই। ৪৪ জন ভিপি-জিএস হতে পারতো। আমি জানি না কেন এই নির্বাচন হয় না। ছাত্রলীগের সম্মেলন সময় মতো করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করবো। তাহলে নেতৃত্বে ট্রাফিক জ্যাম হতো না।’
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে চাইলে রাজনীতির কিছু নিয়ম-নীতি আছে। দল করতে হলে দলের কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। বড় নেতা হতে হলে ছোট নেতা থেকেই শৃঙ্খলার শিক্ষা নিতে হবে।’
ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘রাজনীতি শেখার জন্য কিছু দরকার নেই, শুধু বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়। এই আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধুর শৈশব থেকে বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত যে বিবর্তন তা পড়ে নিজের জীবনকে সুন্দর করো। রাজনীতিকে শেখার জন্য আমাদের জীবন্ত যদি কারো প্রয়োজন হয় তিনি স্বয়ং আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার কাছ থেকে আমরা রাজনীতির শিক্ষা নেব।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘পোস্টারে-ছবিতে এখন অনেক নেতা। বিলবোর্ডে নেতার কোনো শেষ নেই। সেই সিঁকি-আধুলি নেতা। অসংখ্য নেতা এখন। আমি আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে গিয়ে নতুন দিল্লী থেকে আগ্রা পর্যন্ত রাস্তার কোথায় কারও, কোনো রাজনৈতিক নেতার ছবি সম্বলিত একটা বিলবোর্ডও দেখিনি। একটা পোস্টার, একটা ব্যানার দেখিনি।’
কাদের বলেন, ‘পড়াশোনা ছাড়া, মেধা ছাড়া ছাত্রনেতার কোনো প্রয়োজন নেই। কোথায় যাচ্ছো? তাকাও সজিব ওয়াজেদ জয়ের দিকে। বঙ্গবন্ধুর পরিবার এ দেশে মেধা-সততার রাজনীতির প্রতীক। আজকে সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে গত ৪০ বছরে সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা। গত ৪০ বছরে সবচেয়ে সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা।’
ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন পরিচালনা করেন দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিস-উজ-জামান রানা। সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- সংসদ সদস্য সানজিদা খানম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম সারোয়ার কবির, ছাত্রলীগ সভাপতি এএইচ বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, দপ্তর সম্পাদক শেখ রাসেল প্রমুখ।

