ঢাকাSunday , 31 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছাত্রলীগের স্লোগানে বিরক্ত নেতারা

Link Copied!

logoনিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনের আগে মহানগর, জেলা, থানা ও ইউনিট সম্মেলন চলছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত হয় মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সম্মেলন। আজ শনিবার ছিল মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন। এ দুটি সম্মেলনেই পদপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন গ্রুপের নেতা-কর্মীদের অতিরিক্ত স্লোগানে বিরক্ত হয়েছেন সম্মেলনে অতিথি হিসেবে আসা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বর্তমান এবং সাবেক নেতারা।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষেধ-অনুরোধ কিছুই কানে তোলেননি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সম্মেলনে আগত কর্মীদের অনেকে। সম্মেলন চলাকালে এমনও দেখা গেছে- যখনই বক্তব্য শুরু হচ্ছে তখনই স্লোগানের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। স্লোগান থামাতে চটে গিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর নেতারা হুমকি দিয়েছেন- যাদের গ্রুপের স্লোগান হবে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। এরপর কিছুটা চুপ থাকলেও কিছুক্ষণ পর আবার আগের রূপে শুরু করেছেন স্লোগানের ফুলঝুরি।
গত ২৮ মে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। নিজের বক্তব্যের সময় মুহুর্মুহু স্লোগানে একপর্যায়ে তিনি বলতে বাধ্য হন, ‘স্লোগান দিলে আর বক্তব্য দেবো না। আমরাও তো ছাত্রলীগ করেছি। এরকম অবস্থা তো দেখিনি।’
তোফায়েল আহমেদের বকুনি খেয়ে এরপর স্লোগান থামান নেতাকর্মীরা।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পায়রা উড়িয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলন উদ্বোধন করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জমান সোহাগ। এরপর শুরু হয় বক্তৃতাপর্ব। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মহানগরের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের প্রত্যেকেই বক্তব্যের মধ্যে অতিরিক্ত শ্লোগান বিড়ম্বনায় পড়েন ও বিরক্ত হন। সাধারণ নেতাকর্মীদের আচরণে ক্ষুব্ধও হন তারা। এ সময় নেতাকর্মীদের কেউ কেউ শীষও বাজিয়েছেন।
ছাত্রলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম শত অনুরোধ করে, রাগ করেও কর্মীদের এমন আচরণ থামাতে পারেননি। এক কর্মীকে শীষ দিতে দেখা ফেলে তার পাশের জনকে বলেন চড় মারতে। তবে এতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে দোতলায় গিয়ে ব্যবস্থা নেন। নাজমুল আলমও বকুনি দেন কর্মীদের। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলন নয়। ছাত্রলীগের সম্মেলন।’
একই অবস্থা দেখা যায় বদিউজ্জমান সোহাগের বক্তৃতার সময়েও।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘স্লোগান দিলে আমি বক্তৃতা দেব না। এই চেহারার ছাত্রলীগকে আমি দেখতে চাই না। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল ছাত্রলীগ নয়। আর মঞ্চে এত নেতা থাকলে কর্মী কোথায়? এই ছবি ও চেহারার পরিবর্তন করতে হবে। স্টেইজে চেহারা দেখিয়ে নেতা হওয়া যায় না।’
স্লোগান দিলে জামায়াত-শিবির
পদপ্রত্যার্শীদের বিভিন্ন গ্রুপের স্লোগানে বিরক্ত নেতারা তাদের থামাতে যত চেষ্টা করার সবই করেছেন। নেতারা বলেছেন, স্লোগান হবে শুধু নেত্রী শেখ হাসিনার। কোনো ব্যক্তিগত স্লোগান হলে তাদের জামায়াত-শিবির বলে বের করে দেয়া হবে। আমরা সম্মেলন বন্ধ করে দেব। স্লোগান দিয়ে লাভ নেই। সব প্রার্থীদের তথ্য-উপাত্ত আমরা যাচাই-বাছাই করছি। বিগত দিনের কাজ দেখে নেতা কে হবেন তার সিদ্ধান্ত হবে।
মহানগর উত্তর সম্মেলনে ছাত্রদের পাশাপাশি অনেক ছাত্রীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও দক্ষিণের সম্মেলনে ছাত্রীদের দেখা যায়নি। এমন দৃশ্য দেখে দক্ষিণের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজকে কোনো মেয়ে আসেনি। তারাও তো ছাত্রলীগের অংশ।’