নিজস্ব প্রতিবেদক : উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে আসনের কোনো সঙ্কট নেই। তবে তেমন মানসম্পন্ন কলেজ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকেই নিজেদের পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারবে না। আর জিপিএ-৫ এর নিচে প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অনেককেই ভর্তি হতে হবে মানহীন কলেজে।
আগামী ৬ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীর ভর্তি ফরম উত্তোলন ও জমা দেয়া যাবে। বিলম্ব ফি’সহ ভর্তির শেষ তারিখ ২৬ জুন। ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে ১ জুলাই থেকে।
এবার এসএসসিতে পাস করেছে ৯ লাখ ৬১ হাজার ৪০৫ শিক্ষার্থী। আর একাদশ শ্রেণীতে সারাদেশে আসন রয়েছে ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৯টি। অপরদিকে মাদরাসায় দাখিল পাস করেছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৬ জন। আর মাদরাসায় ফাজিল স্তরে আসন রয়েছে সোয়া দুই লাখ। কারিগরি স্তরে এসএসসি (ভোকেশনাল) পাস করেছে ৯১ হাজার ৪৫৭ জন। আর এই স্তরে আসন রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজারের মতো।
এসব হিসাবে উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সঙ্কট না থাকলেও, শিক্ষার্থীরা বিপদে পড়বেন মানসম্পন্ন কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়বেন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় ৯৩ হাজার ৬৩১ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া জিপিএ-৪ থেকে ৪ দশমিক ৯৪ পেয়েছে আরো ১ লাখ শিক্ষার্থী। মেধাবী এসব শিক্ষার্থীরা চাইবে দেশের ভালো কলেজগুলোতে ভর্তি হতে। কিন্তু রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোসহ সারাদেশে জেলা পর্যায়ে ভালো কলেজ খুবই সামান্য। ফলে মেধাবী হয়েও ভালো কলেজে শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হবে তারা।
তবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শহর পর্যায়ের কলেজে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ ভাগ আসন সংরক্ষণ করার জন্য কলেজগুলোয় দেয়া নির্দেশ এবারও বহাল রয়েছে। এবারও জিপিএর ভিত্তিতেই কলেজে ভর্তি করা হবে। কোনো ধরনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়া যাবে না।
একাদশ শ্রেণীর ভর্তি নীতিমালা
গত দু’বারের মতো এবারো ৩০০ জনে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অনুমতি আছে এমন কলেজগুলোতে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। না পারলে আগের নিয়মে। কিন্তু ৫০০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর কলেজগুলোতে অবশ্যই অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এবার একসঙ্গে একজন শিক্ষার্থী ৫টি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। ভর্তির ক্ষেত্রে ফলাফল একই হলে পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করে আবেদনকারীদের মধ্য সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে। পরীক্ষার এই নম্বরপত্র রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের কাছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। একাদশ শ্রেণীতে কোনো আসন সঙ্কটও নেই। যে পরিমাণ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাতে অনেক কলেজেই আসন শূন্য পড়ে থাকবে। তবে এ কথা স্বীকার করতে হবে, মানসম্মত কলেজগুলোয় আসনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই আমাদের কাছে এখন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা দেয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) দেয়া তথ্য অনুসারে, শুধুমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই ঠাঁই মিলবে না রাজধানী ও দেশের অন্যান্য বড় শহরের ভালো কলেজগুলোতে। রাজধানীতে সেরা ২০টি কলেজে আসন রয়েছে মাত্র ২০ হাজার। আর সব মিলিয়ে রাজধানীর ১৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে আসন আছে ৪৩ হাজার ৫১৯টি। সেখানে ঢাকা বোর্ডেই এবার পাস করেছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৬ জন। যার মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৮০১ জন। এ ছাড়া জিপিএ ৪ থেকে ৫ এর মধ্যে পেয়েছে আরো ৯৬ হাজার ৬৬৭ জন।
কোন কলেজে কতো আসন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার কলেজগুলোর মধ্যে ভালো মানের কলেজ হিসেবে পরিচিত নটরডেম কলেজে ২ হাজার ১৪০টি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯৯০টি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৫০টি, ঢাকা কলেজে ১ হাজার ১০০টি, হলিক্রস কলেজে ৪৯০টি, ঢাকা কমার্স কলেজে ৯০০টি, সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ৪৭৫টি, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজে ৮২০টি, ঢাকা সিটি কলেজে ১ হাজার ১৮০টি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ৪৫৫টি আসন রয়েছে।
এছাড়া লালমাটিয়া গার্লস কলেজে ৬১৫টি, মতিঝিল মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪৩২টি, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে ৩৭০টি, বিএএফ শাহীন কলেজে ৬০৬টি, তেজগাঁও কলেজে ৪০২টি, শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে ১৯৯টি, রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৬৫টি, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৯৮টি, সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ১৪০টি, নবকুমার ইনস্টিটিউশনে ১০০টি, এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০৩টি, সরকারি বাঙলা কলেজে ৯৭২টি, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ইউনিভার্সিটি কলেজে ২০৭টি, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০৯টি, সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪টি, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজে ২১৪টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬০টি, সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ৬৭১টি, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ৬৫১টি, শেরেবাংলা বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩০৯টি, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে ১ হাজার ৪৮৫টি এবং ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে ৫১৪টি আসন রয়েছে।
এসব কলেজে ভর্তির জন্য মেধাবীদের মাঝে বেশি আগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও ছোট-বড় মিলিয়ে আরো বেশকিছু কলেজ রয়েছে।

