ঢাকাFriday , 22 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিপদাপন্ন রোহিঙ্গারাই পাচার হচ্ছে বেশি

Link Copied!

manনিজস্ব প্রতবেদক : বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা হয়ে সমুদ্রপথে বেশি পাচার হচ্ছে মিয়ানমারের বিপদাপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন। বাংলাদেশের মানুষের চেহারা এবং চট্টগ্রামের ভাষার সঙ্গে মিল থাকায় সাগরে ভাসতে থাকা রোহিঙ্গারা বাঁচার জন্য নিজেদেরকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিচ্ছে। ফলে বহির্বিশ্বও ধারণা করছে সাগরপথে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি পাচার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ভাত-কাজের অভাব নেই। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে বিদেশে পাড়ি জমানোর কোনো যুক্তি হয় না। তারপরও লোভে পড়ে, পাচারকারীদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে অনেকে সাগরে পাড়ি জমাচ্ছে। তবে সে সংখ্যা খুব বেশি নয়। মূলত দেশ ও বাস্তুহারা রোহিঙ্গারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তৃতীয় কোনো দেশে পাড়ি জমাতে চাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মুসলমান হিসেবে সহমর্মিতা পাওয়ার আশায় তারা বেছে নিয়েছে মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে। সমুদ্র ও তার বিপদ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তারা পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে অনায়াসে পাড়ি দিচ্ছে সাগরে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য শুধু আজকেই নতুন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী জেলায় যেসব অপরাধ সংঘঠিত হয় তার অধিকাংশেই ঘটছে রোহিঙ্গদের হাত দিয়ে। এমনকি বাংলাদেশে সর্বসম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত ‘ইয়াবা’ সমস্যার পেছনেও জড়িয়ে রয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশই নয়, বিভিন্ন অপরাধের কারণে সাত শতাধিক রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে।
এদিকে, পাচার হওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোনো রকম মাথাই ঘামাচ্ছে না মিয়ানমার সরকার। নানা কৌশলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে চলেছে। সাগরে রোহিঙ্গারা নিজেদের বাংলোদেশি বলে পরিচয় দেয়াতে তারা কিছুটা সুযোগও পেয়ে বসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো সাগরপথে ‘রোহিঙ্গা’ পাচার হওয়ার দায় অনেকটা একাই টানতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
ফলে দেশে রোহিঙ্গা কীর্তিকে এবার আমলে নিচ্ছে সরকার। রোহিঙ্গাদের সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলা থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা চিন্তাভাবনা করছে।
স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মানবপাচার ইস্যুতে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের কাছে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে কয়েকটি রাষ্ট্রের তরফ থেকে ফোন করেও কোন কাজ হয়নি। এমনকি বাংলাদেশে বন্দি ও অনুপ্রেবেশের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের ব্যাপারেও কোনো সহায়তা করছে না মিয়ানমার।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘সমুদ্রে যারা ভাসছেন তারা বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে নেই। এ ছাড়া ট্রলারে থাকা লোকের মধ্যে বাংলাদেশীরা আছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশের জলসীমায় থাকলে সহজে চিহ্নিত করা যেতো। এরপরও আমরা জানার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষের আয় বেড়েছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপাড়ি দিয়ে অবৈধপথে খুব কমই যাচ্ছে। যারা যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টির সুরাহার জন্য মিয়ানমার সরকারকে ফোন করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া সরকারের তরফ থেকে মিয়ানমারকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারো কথাকে আমলে নিচ্ছে না মিয়ানমার।’
সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে সরকারি বাহিনী জাহাজে করে এসব রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ঠেলে দেয়ার বিষয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের নৌ বাহিনী বাংলাদেশের জলসীমা থেকে তা দেখতে পেলেও তাদের কিছুই করার নেই। ওইসব জাহাজে বাংলাদেশের আদম পাচারকারীরা কৌশলে নৌকা দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের সেই জাহাজে তুলে দিয়ে আসে।
জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের জন্য সরকার চাপ দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের চেহারা ও বাংলাদেশিদের চেহারা এক হওয়ার কারণে যৌক্তিক কারণেই বাঁচার জন্য রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেয়। ফলে সমুদ্রে থাকা নাগরিকদের মধ্যে খুব বেশি বাংলাদেশি নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত রোববার মালয়েশিয়ায় সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফা আমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সংকট নিরসনের দাবি জানান। মালয়েশিয়াও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছে বলে জানায় সূত্র।
মালয়েশিয়া জানিয়েছে তারা ইন্দোনেয়িশয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলেছে। সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ড আগামী ২৯ মে আঞ্চলিক সম্মেলন আহ্বান করেছে। কিন্তু মিয়ানমার ইতোমধ্যে ওই সম্মেলনে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় সম্মেলনের সাফল্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পুলিশ ও কারা সূত্র জানায়, যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফিরিয়ে দেয়ার আগে তল্লাশি করে যদি অবৈধ কিছু পাওয়া যায় তা হলে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। যাদের কাছে মাদক পাওয়া যায় তাদেরকে মাদক আইনে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাত শতাধিক রোহিঙ্গা বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিকের সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে সহযোগিতা না পাওযায় তাদেরকে মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না।
বিদেশী নাগরিকদের ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানায় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত নাগরিকদের নিয়ে যায় এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়।
মিয়ানমারের নাগরিকদের ব্যাপারে তথ্য জানিয়েও তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। তারা বর্তমানে আরপি (রিলিজড প্রিজনার) হিসেবে বন্দি রয়েছে। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. সাঈদ হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজার কারাগারে ১৯০ জন মিয়ানমারে নাগরিক বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদের বিষয়ে মিয়ানমারের তরফ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।’