ঢাকাWednesday , 17 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সংবিধান সংশোধন হবে গোপন ভোটে

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 17, 2014 12:18 pm
Link Copied!

11নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪ পাসের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হবে আজ বুধবার রাতে। অন্যান্য বিলের মতো এটি কণ্ঠভোটে পাস হবে না। গোপন ভোটের মাধ্যমে এ বিল পাস করতে হবে। আর এ জন্য সব সদস্যকে সংসদে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সংবিধান অনুযায়ী বিভক্তি ভোট পাস করা হবে সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪ । গোপন ভোটে সরাসরি ব্যালটে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভোটগ্রহণ করা হবে। দুই তৃতীয়াংশ ভোট বিলের পক্ষে পড়লে তা পাস হবে অন্যথায় নয়।
সংবিধান সংশোধনী বিলটিতে ভোট উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। বিভক্তি ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বুথের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থেকে বিলের পক্ষে ভোট দিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সদস্যকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। সংবিধান বিল পাসের সময় কীভাবে বিভক্তি ভোট দিতে হয় সে সম্পর্কেও নতুন সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন তিনি।
এরপর গত ১২ সেপ্টেম্বর সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন)বিল-২০১৪ বিলের পক্ষে সমর্থন দিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তারা বিলের পক্ষে সমর্থন দিবেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দেন।
সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের সময় কোনো সদস্য সংসদে অনুপস্থিত থাকতে পারবেন না। অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ শূন্য হবে। তবে স্পিকার এবং স্ব স্ব দলের সংসদীয় দলের প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে যে কোনো সদস্য অনুপস্থিত থাকতে পারবেন।
এর আগে এ ব্যাপারে সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কো-চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, ‘সরকারি এবং বেসরকারিভাবে বিল পাসের বিধান থাকলেও সংসদ কার্যপ্রণালী বিধির ৯৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন বিল পাস করা হবে। তাতে করে মন্ত্রী পরিষদেও এটি যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বরং সংসদে উত্থাপনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হলেই হবে।’
সুরঞ্জিত জানান, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আরো আলোচনা হবে। বিরোধী দল ওই কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়েও এ বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারবেন। অধিবেশনের প্রথম সুযোগেই প্রতিবেদন দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে এ সংক্রান্ত খসড়া বিল উত্থাপন করা হবে। তবে ৯ জুন বাজেট উত্থাপনের পরেও এ বিষয়ে আলোচনা চলতে পারে।
সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার পরই সংবিধান সংশোধনে গঠন করা বিশেষ কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে জানান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিলটির পক্ষে ভোট দেবে বলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে সংসদে সব সদস্যদের উপস্থিতি বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আসম ফিরোজ জানান, সংবিধান সংশোধন বিল পাসের দিন সংসদে যেন সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকেন, সে জন্য এরই মধ্যে হুইপিং করা হয়েছে। সকলেই উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানা গেছে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী সংবিধান সংশোধন বিলটির ওপর কিছু সংশোধনী জমা দিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ে। বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবও করেছেন তিনি। এ ছাড়া তেমন কেউ বিলটির ওপর কোনো সংশোধনী বা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেননি।
সংবিধান সংশোধন বিল পাসের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বিলটি পাসের প্রস্তাব করবেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এরপর স্থায়ী কমিটির সুপারিশ করা বিলটির প্রতিটি উপদফা, দফা, প্রস্তাবনা ও শিরোনাম ভোটে দেবেন স্পিকার। পরে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলোও স্পিকার ভোটে দেবেন। এই দুটি বিষয় নিষ্পত্তি হবে কণ্ঠভোটে। এরপর বিলটি পাসের প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে লবিতে গিয়ে গোপন বুথে স্বাক্ষর করবেন। এরপর স্পিকার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করবেন।
এই বিলটি পাস হলে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ পুনস্থাপিত হবে। ওই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারককে তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে অপসারণের বিধান ছিল। তবে ওই অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের চাকুরির বয়স বর্তমান বিধান অনুযায়ী ৬৭ বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ওইদিনই বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিলের উপর সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সংসদীয় কমিটি গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র দুটি বৈঠকেই এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে।
এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়েছিল। বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটে ওই সংশোধনীর মাধ্যমে। সংসদে বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সে দিন বিলটি পাস হয়েছিল। বিলটির পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ২৯১টি, বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছিল মাত্র ১টি। নবম সংসদের একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম ওই ‘না’ ভোটটি দিয়েছিলেন।
এদিকে সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪ পাস উপলক্ষে বুধবার বেলা ১২টা থেকেই সংসদে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিত হতে দেখা যায়।