ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আকচা বন্দরপাড়া এলাকায় বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে স্থানীয় বখাটে।
আর এ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার নামে আকচা ইউপি সদস্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা আকচা বন্দরপাড়া এলাকায় হানিফার ছেলে বখাটে আরিফ বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পাশের গ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের জালে আটকে ফেলে। এ সুবাদে তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায় আরিফ। ওই মেয়ের দুর্বলতার সুযোগে আরিফ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত কয়েকদিন আগে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের সময় স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে ধরে ফেলে তাদের। পরে ওই মেয়ে আরিফের বাড়িতে চলে যায়। এরপর চলে ওই মেয়ের ওপর আরিফের পরিবারের লোকজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
আরিফের বড় ভাই আনিস ওই মেয়েকে বেধরক মারপিট করে আহত করেন। খবর পেয়ে মেয়ের পরিবারের লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অভিযোগ করেন।
পরে ইউপি সদস্য ওই দুই পরিবারকে নিয়ে শালিসে বসেন। শালিসে ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হয়। এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস প্রদান করে ইউপি সদস্য।
মেয়ের বাবা জানান, আমরা খুব গরিব মানুষ। আমাদের ইজ্জতের কোনো মূল্য নাই। মেয়ের পরবর্তী বিয়ের কথা ভেবে বাসায় চলে আসছি। বিষয়টি যেন কাউকে না জানায় সেজন্য ইউপি সদস্য ও বখাটে আরিফ প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। ইউপি সদস্য আরিফের পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের জন্য হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু আমাকে কোনো টাকা পয়সা দেয়া হয়নি।
ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে জানান, বিয়ের কথা বলে আরিফ আমার সঙ্গে প্রেম করে। পরে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন সবকিছু অস্বীকার করছে সে। ইউপি সদস্য শালিস নামায় জোরপূর্বক আমার কাছে স্বাক্ষর নিয়েছে। আমি আরিফের বিচার চাই।
স্থানীয় সাদেকুল ইসলাম জানান, ওই ইউপি সদস্য এই রকম একাধিক শালিসের নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ এসব বিষয়ে কোনো শালিস চলে না। এলাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা ইউপি সদস্য ও বখাটে আরিফের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচায় চায়।’
ইউপি সদস্য মকলেসুর রহমান ধর্ষণের শালিসের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলে পরিবার থেকে মেয়েকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
ধর্ষণের বিষয়ে বিচার শালিস দণ্ডনীয় অপরাধ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যেহেতু মেয়ের পরিবার খুব গরিব তাই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।
আকচা ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত রায় জানান, নারী নির্যাতন-ধর্ষণ স্থানীয়ভাবে শালিসযোগ্য নয়। যদি এ বিষয়ে অভিযোগ থাকে তাহলে থানা পুলিশের মাধ্যমে যেতে হবে।

