খুলনা প্রতিনিধি
কয়রা উপজেলায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ছাত্রলীগের দেড়শ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার দুপুরে ৩০জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০জন উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মৃত্যুঞ্জয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাজল (২৩) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিযার রহমান সরদারের ছেলে।
এদিকে, কয়রা উপজেলা হাসপাতালে চিহিৎসাধীন আহতদের মধ্যে ৬জনকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুবীর দত্ত বলেন, ‘রোববার সংঘর্ষ, ভাঙচুর, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় সহকারী উপপরিদর্শক মৃত্যুঞ্জয় বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। কাজল (২৩) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার আসামিরা প্রায় সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।’
অপরদিকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজাত আহমেদ জানান, মারামারির ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে বেশ কয়েকজন ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হযেছে। তারা হলেন- শাহিনুর হোসেন, তৌহিদ হোসেন, রুবেল হোসেন, মাসুদ রানা, মেহেদী ও শামীম হোসেন।
উল্লেখ্য, কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাছাড়িবাড়ি এলাকায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলায় সার্কাসের আযোজন করে স্থানীয়রা। সার্কাসে স্থানীয় ছাত্রলীগের কমপক্ষে ১ থেকে দেড়শ নেতাকর্মী প্রতিদিন বিনা টিকিটে সার্কাস দেখে আসছিল। গতকাল রোববার রাতে তারা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সার্কাস দেখতে গেলে তাদের সাথে মেলা কমিটির বিরোধ হয়। এ সময়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাকার্সের প্যান্ডেলসহ অন্যান্য জিনিস পত্র ভাঙচুর শুরু করে। তাদেরকে প্রতিহত করতে মেলা আয়োজক কমিটি ও পুলিশ হিমশিম খায়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি বর্ষণ করে। এতে আহত হন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুরীর দত্তসহ কমপক্ষে ২৪ জন।

