নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে ঘাটতি ও অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মো. আব্দুল মালেক, মো. হাসিবুর রহমান স্বপন, খন্দকার আবদুল বাতেন, শেখ মো. নূরুল হক এবং শিরিন নাঈম অংশ নেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ বলেন, “খাদ্য গুদাম ও সাইলো নির্মাণসহ খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছেই। সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারি এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্তের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছে কমিটি।
বৈঠকে খাদ্য মজুদ পরিস্থিতি এবং খাদ্য শস্য আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে খাদ্য মজুদের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ লাখ মে. টন বেশি এবং মোট খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৬ মে. টন।
চলতি অর্থবছরের (২০১৪-২০১৫) বাজেটে নিজস্ব সম্পদে ৯ লাখ মে. টন গম ও ২ লাখ মে. টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। এ সময় কমিটি খাদ্য গুদাম ও সাইলো নির্মাণের চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে সম্পন্ন হয় সেবিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে।

