ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সরকারি বাসভবনে রাতে নামজারির ফাইল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বর্ণনায় সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও উপজেলা ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরীর (নাইটগার্ড) বক্তব্যে স্পষ্ট অসংগতি পাওয়া গেছে। ভূমি অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী জানান, নাইটগার্ড হয়েও তিনি মূলত নামজারির ফাইলটি এসিল্যান্ডের বাসায় পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে এসিল্যান্ড দাবি করেন, ওই কর্মচারী তাঁর বাসায় বাজার পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। তবে নাইটগার্ডের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরা হলে এসিল্যান্ড অবস্থান বদলে জানান, ক্যান্সার আক্রান্ত এক রোগীর মানবিক দিক বিবেচনা করে রাতে নামজারির নথিটি স্বাক্ষরের জন্য নেওয়া হয়েছিল। একই ঘটনার বিপরীতে দুই ধরনের বক্তব্যে সরকারি নথিপত্র ব্যবস্থাপনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নামজারি প্রক্রিয়া বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও রাতে ফাইল ব্যক্তিগত বাসভবনে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি, নাইটগার্ডের মূল দায়িত্ব ভূমি অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অফিসে সুনির্দিষ্ট মিউটেশন সহকারী থাকা সত্ত্বেও একজন নাইটগার্ডকে দিয়ে সরকারি নথি আদান-প্রদান করানো এবং রাতের বেলা তাঁর অনুপস্থিতিতে অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অপরপক্ষে, এসিল্যান্ডের প্রথম বক্তব্য (বাজার দেওয়া) সত্য ধরে নিলেও সরকারি কর্মচারীকে ব্যক্তিগত বা গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের বিষয়টি চলে আসে। পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নথি পরিবহনের অনুমোদন ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

