ঢাকাTuesday , 6 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হেলমেট পরে সরকারি সেবা, দুর্ঘটনার শঙ্কা

Link Copied!

মাথার ওপর ঝুলছে বিপদের শঙ্কা। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ভবনের ভেতরে ঢুকলেই আতঙ্ক—কখন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে ছাদের অংশ! তাই বাধ্য হয়ে মাথায় হেলমেট পরে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর হেলমেট ছাড়াই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নং বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনের চিত্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। প্রতিদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন শতাধিক মানুষ। অথচ ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা নাজুক। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সর্বশেষ গেল রবিবার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বিভিন্ন কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও ছাদে ফাটল, কোথাও আবার ঝুলছে পলেস্তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে পরিষদের কর্মরত কয়েকজন মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবনের হলরুম ও তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও প্রতিদিন মানুষের যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। প্রতিদিন শতাধিক মানুষ জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে এখানে আসেন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেবা নিতে আসা প্রসেনজিৎ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজে আসতে হয়। কিন্তু ভবনের ছাদ ও দেয়ালের যে অবস্থা, তাতে ভেতরে ঢুকতেই ভয় লাগে। মাথার ওপর কখন পলেস্তারা খসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে। দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার। আরেক সেবা নিতে আসা আতিয়ার রহমান বলেন, সরকারি সেবা নিতে এসে যদি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, তাহলে বিষয়টি খুবই দুশ্চিন্তার। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেলমেট পরে কাজ করতে হচ্ছে—এটাই ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রমাণ। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। স্থানীয় এক বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, অনেকদিন ধরে ভবনটির এমন অবস্থা। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালেও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এখানে অনেক মানুষ আসে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদে গ্রামের মানুষ বিভিন্ন কাজে আসে। ভবনের অবস্থা দেখে অনেকে ভেতরে ঢুকতেও ভয় পান। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন,ভবনের কোনো কক্ষই নিরাপদ নয়। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতিদিন মানুষ সেবা নিতে আসেন। পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহতও হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন,জায়গা স্বল্পতার কারণে বর্তমান স্থানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা যাবে।