রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে কবুতর ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ অর্থ জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় আরও চারজন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচটি পৃথক টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএনসির দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘কবুতর মমিনের’ বাসায় বিপুল পরিমাণ মাদক মজুত রয়েছে। পরে তার কবুতরের দোকান, পরিচালিত সমিতি ঘর, বিকাশের দোকান এবং বসতঘরে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযানে জব্দ করা হয় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে ৪৩ লাখ ৬ হাজার ১৪০ টাকা।
ডিএনসি সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কবুতর মমিনের স্ত্রী নুরুন্নাহার জানিয়েছেন, কবুতর ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার অর্থ নিজস্ব বিকাশ চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন করা হতো। তবে এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযানে মো. রানা (৩৮), নুরুন্নাহার (৪০) ও মো. আশরাদুল ইসলাম (২৮) গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় কথিত গডফাদার কবুতর মমিন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৬) অনুযায়ী মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ডিএনসির গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মো. ইমদাদুল হক খাঁন বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলার কার্যক্রম করছেন।
এদিকে একই অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

