বাগেরহাটের রামপালে ৮৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচির আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় রামপালের গৌরম্ভা ইউনিয়ন খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল স্কুল ব্যাগ, পানির বোতল, টিফিন বক্স, খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, রুলার, জ্যামিতি বক্স ও ছাতা। এ কর্মসূচির আওতায় খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ণি-ছায়রাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ণি-ছায়রাবাদ কুইন্টন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং সীতানাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইএফপিসিএলের চিফ প্রকিউরমেন্ট অফিসার এস. এম. জাহিদ হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, রামপাল শাখার ব্যবস্থাপক ও গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইএফপিসিএলের চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার আনোয়ারুল আজিম। এছাড়া খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ মুজিবুর রহমান যোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিআইএফপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিয়মিত জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের সংকট দূর করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবারের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ কিনতে সমস্যায় পড়ে। বিআইএফপিসিএলের এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকিও কমবে।

