মেহেরপুরের গাংনীতে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা একাধিক মামলার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হোসেন আলী ওরফে ‘বোমা হোসেন’ ওরফে পিচ্চি হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাংনীর পূর্ব মালসাদাহ গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হোসেন আলী গাংনী উপজেলার পূর্ব মালসাদাহ গ্রামের মৃত ওহিল উদ্দিনের ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, দুটি বিস্ফোরক, একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও একটি অস্ত্র আইনের মামলাসহ মোট সাতটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী জানান, গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এর আগে উদ্ধার হওয়া পরিত্যক্ত ককটেলসদৃশ বস্তুগুলোর বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে হোসেন আলীর নাম ও তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ। পরে প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার হোসেন আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাংনী উপজেলার পূর্ব মালসাদাহ গ্রামে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে তার দেখিয়ে দেওয়া একটি স্থান থেকে দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ককটেল দুটি পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, হোসেন আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলাসহ মোট সাতটি জিআর ওয়ারেন্ট রয়েছে। এছাড়া তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত বা নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে পুলিশের নথিতে থাকা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা)-এর সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর কুমিল্লা থেকে তার গ্রেপ্তার এবং নিজ বাড়ি থেকে দুটি ককটেল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলোর বিষয়ে তদন্তসহ গ্রেপ্তার হোসেন আলীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

