ঢাকাWednesday , 19 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাল দলিলের অভিযোগে নামজারি, জমি বিক্রির দাবি
আগৈলঝাড়ায় ভূমি বিরোধে আদালতে মামলা, তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির

Link Copied!

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি করে পরবর্তী সময়ে তা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লিয়াকত আলী হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও নামজারি নিয়ে এলাকায় বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকসী গ্রামের উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগ এবং বিএস ২৪৮ নম্বর খতিয়ানের ৫৪৯ নম্বর দাগে ২৭ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন বিনোদ বিহারীর স্ত্রী উপসনা।

অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি নিজের নামে নামজারি করার জন্য লিয়াকত আলী হাওলাদার একটি দলিল ব্যবহার করেন। দলিলটি আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করা হলেও অভিযোগকারীদের দাবি, দলিলটির তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি ও দাতা-গ্রহীতার তথ্যের মিল নেই।

অভিযোগের আরও বলা হয়, দলিল নম্বর ১৭১৯ এবং তারিখ ১০ আগস্ট ২০১০ উল্লেখ করে লিয়াকত আলী হাওলাদার জমিটি নিজের নামে নামজারি করেন। তবে বরিশাল নকলখানা থেকে একই নম্বরের দলিলের তথ্য যাচাই করে দাতা ও গ্রহীতার নামের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি বলে মামলার বাদীপক্ষের দাবি। তাদের দাবি, একই দলিল নম্বরের নথিতে দাতা হিসেবে ভাল্লুকসী গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র তপাদারের ছেলে তপন তপাদারের নাম রয়েছে এবং সেখানে ভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের জমির বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর লিয়াকত আলী দ্রুত ওই জমি অন্য ব্যক্তিদের কাছে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে আজগোর আলী মৃধা বাদী হয়ে লিয়াকত আলী হাওলাদারকে বিবাদী করে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর মামলা নম্বর ৭১/২০২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার বাদী আজগোর আলী মৃধা বলেন, “আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। এখন লিয়াকত আলী জোরপূর্বক জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন।”

স্থানীয় ফয়জর আলী মৃধা, লুতফর রহমান ও মজিবর হাওলাদারসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাদের জানামতে, প্রায় ৪০ বছর ধরে ফরমান আলী মৃধার ছেলে আজগোর আলী মৃধা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে লিয়াকত আলী হাওলাদার বলেন, আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০ আগস্ট ২০১০ সালের ১৭১৯ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে তিনি জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তিনি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ৩৭৩৭৭০৭ নম্বর আবেদন করে মিউটেশন মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১২০৩। পরে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজীদ সরদার ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আদেশ দেন এবং সেই আদেশের ভিত্তিতে তার নামে ২৭ শতাংশ জমি নামজারি হয়। নামজারি হওয়ার পর তিনি জমিটি জুলহাশ মৃধা ও রমজান মৃধার কাছে বিক্রি করেছেন বলেও জানান।
বর্তমান আগৈলঝাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ আহমেদ বলেন, লিয়াকত আলী হাওলাদার অনলাইনে নামজারির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং আবেদনের কাগজপত্র অনলাইনে রয়েছে। তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই করে নামজারি করে থাকলে, পরবর্তীতে আবেদনকারী জালিয়াতির মাধ্যমে আদালত বা ভূমি অফিসকে ভুল বুঝিয়ে থাকলে তার দায় আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে।

এদিকে, মামলার তদন্ত শুরু হলে দলিলের সত্যতা, নামজারি প্রক্রিয়া এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জমি নিয়ে চলমান বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।