ঢাকাTuesday , 18 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উত্তরবঙ্গের চিনিকলটি প্রায় ৫ বছর ধরে বন্ধ

Link Copied!

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিটি রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমানে কারখানা প্রাঙ্গণে কেবলই সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এক সময় সাইরেনের আওয়াজের মধ্যে প্রতিদিন ভোরে মেহনতী মানুষের কোলাহলে পুরো জনপদ জেগে উঠত। সেখানে আখের ট্রাক ও ট্রলির দীর্ঘ সারি, চিমনি থেকে ওঠা অবিরাম ধোঁয়া এবং দেশীয় চিনির গন্ধে তা পরিপূর্ণ থাকত। কিন্তু এখন আর সেই সাইরেনের আওয়াজ শোনা যায় না, আখবাহী ট্রাকও চলাচল করে না, চিমনির ধোঁয়াও বাতাসে মিলিয়ে গেছে। চিনিকলটির বন্ধ থাকার কারণে, দেশীয় চিনির উৎপাদন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে, রোদ-বৃষ্টির মধ্যে ভিজে অযত্ন ও অবহেলায় হাজার কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করার জন্য যে কারখানা ছিল, তা এখন জং ধরে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এদিকে, বিপুল এই সম্পদের রক্ষায় কার্যকর কোন উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের অভিমতের ভিত্তিতে জানা যায় যে, এই চিনিকলটি একটি কারখানা নয়; বরং এটি ছিল উত্তরবঙ্গের হৃদস্পন্দন। এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং শ্রমজীবীদের জীবিকার তাগিদে মিলটি দ্রুত পুনঃচালু করার প্রয়োজন। রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা জানিয়েছেন, ‘রংপুর চিনিকল উত্তরের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এই কারখানা সচল হলে এখানকার শ্রমিক-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’ গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন জানান, ‘চিনিকলটি তৃতীয় ধাপে চালুর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হল এটি দ্বিতীয় ধাপে চালু করা যাবে কি না।’ বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন এবং শিল্পমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, মিলটি চালু রাখতে যে পরিমাণ আখ প্রয়োজন, তা রংপুর চিনিকলের আছে। মিলের অবকাঠামো, যন্ত্রাংশ ও যানবাহন দ্বারা ৪ থেকে ৫ মাস মিলটি সচল রাখা সম্ভব হলে চিনি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। রংপুর চিনিকলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনূল ইসলাম বলেন, ‘মিলের যন্ত্রপাতি ও অপারেশনের প্রধান স্থানগুলোকে সঠিকভাবে মেরামত করা এবং জনবলকে দক্ষভাবে কাজে লাগাতে পারলে, মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস কারখানাটিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে এটিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।