ঢাকাMonday , 17 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইউনিফর্মের টাকায় অনিয়মের অভিযোগ, বিদ্যালয় চলাকালে ১ হাজার টাকায় ‘নিরাময় ক্লাস’

Link Copied!

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ১৩ নম্বর গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মের টাকা আদায়ে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে অর্থ নেওয়া এবং নারী-সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে অভিভাবকরা দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে নির্ধারিত খরচের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ছেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায়ের হিসাবে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু বকরের ইউনিফর্মের একটি হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দর্জিকে মজুরি হিসেবে ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও অভিভাবকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৬৫০ টাকা। একইভাবে ১০ টাকার ব্যাজের জন্য ৩০ টাকা এবং ৬০ টাকার টাইয়ের জন্য ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া জামার কাপড়ের দাম ১৩০ টাকা গজ হলেও ১৫০ টাকা, ছেলেদের প্যান্টের কাপড় ১৫০ টাকা গজের স্থলে ২২০ টাকা এবং মেয়েদের পাজামার কাপড় ৯০ টাকা গজের স্থলে ১২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, আবু বকরের ইউনিফর্ম তৈরিতে প্রকৃত খরচ প্রায় ৮৭০ টাকা হলেও নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৩০ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও দর্জির কথোপকথনের একটি রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়ে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এসব ক্লাস নেওয়া হতো। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ওই ক্লাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নিরাময় ক্লাস’ নামে প্রচার করা হয়েছিল।
অভিযোগে কয়েকজন অভিভাবকের নাম উল্লেখ করে তাদের কাছ থেকে এ ধরনের ক্লাসের জন্য টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে ইউনিফর্মের মূল্য নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, দর্জিকে দেওয়া টাকা, ১ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ক্লাসের অর্থ এবং ‘নিরাময় ক্লাস’ সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা নারী-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
তবে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান কোনো সাড়া দেননি। পরে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের হিসাব, ইউনিফর্মের প্রকৃত মূল্য এবং বিদ্যালয় চলাকালে অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায় এবং বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের ব্যবহারের বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তাই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।