ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাচীন ‘সোনার মূর্তি’ ও পুরোনো মুদ্রার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা মো. মোস্তফা আলী ওরফে আকাশ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, মাদক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, বিস্ফোরক দ্রব্য ও নারী নির্যাতনসহ ২৭টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আকাশ পীরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জগথা এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি মামলায় তিনি তিন বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সোমবার বিকেল তিনটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান বলেন, আকাশ শুধু নকল স্বর্ণমূর্তি প্রতারণা চক্রের মূলহোতাই নন, তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে গাজীপুরে অবস্থান করে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় আত্মগোপনে থেকে নকল মূর্তি বিক্রির প্রতারণা ও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসূল জানান, গত ১৬ জুলাই রাতে দিনাজপুরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার পর রানীশংকৈল উপজেলার কোচল গ্রামের জনৈক জাহাঙ্গীরের ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ছয়টি সোনালি রঙের কৃষ্ণমূর্তি, পাঁচটি ব্রিটিশ আমলের রৌপ্যমুদ্রা ও একটি পিতলের কলস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কৃষ্ণমূর্তিগুলোর মোট ওজন ৩ কেজি ৭০ গ্রাম। ওসি বলেন, অভিযানের সময় আকাশ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও রোড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, প্রাচীন সোনার মূর্তি ও মুদ্রা পাওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল চক্রটির অন্যতম কৌশল। এ চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং প্রতারণার মাধ্যমে কত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

