ঢাকাSaturday , 13 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোস্টগার্ড-ডাকাত আতঙ্কে জেলেরা

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 13, 2014 12:03 pm
Link Copied!

picবড়গুনা প্রতিনিধি

সাগরে কোস্টগার্ডের চাঁদাবাজি ও ডাকাতদের নির্যাতন আতঙ্কে ইলিশ শিকারে জেলেদের মাঝে অনিহা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস অবতরণ কেন্দ্রে গত বছর প্রতিদিন ৫০ টনেরও বেশি ইলিশ বিক্রি হলেও চলতি মৌসুমে প্রতিদিন ২৫ টন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে।
অপহরণ আর চাঁদাবাজির আতঙ্কে গত বছররের তুলনায় এ বছর অর্ধেকে নেমে এসেছে ইলিশ আহরণ।
অপহরণের পর মুক্তিপণের দাবিতে ডাকাতেরা প্রতি বছর জেলেদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। মুক্তিপণের টাকা দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে অনেক জেলেদের।
অন্যদিকে, কোস্টগার্ড ডাকাত বাহিনী নির্মূল না করে প্রতিনিয়তই জেলেদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে বলে দাবি পাথরঘাটার জেলেদের।
পাথরঘাটা বিএফডিসি সূত্র জানায়, গত বছর পাথরঘাটা মৎস অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৫০ টন ইলিশ বিক্রি হত। কিন্তু এ বছর প্রতিদিন ২৫ টনেরও কম ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ডাকাতদের মুক্তিপণের টাকার পরিমান দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার কারণে পাথরঘাটায় ইলিশ সঙ্কটের প্রধান কারণ।
এভাবে ডাকাতদের তৎপরতা চলতে থাকলে এ খাত থেকে সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে বলে মনে করছেন পাথরঘাটা মৎস অবতরণ কেন্দ্রের পাইকাররা।
পাথরঘাটা, নিশানবাড়ীয়া ও তালতলীর জেলেরা জানান, কোস্টগার্ড ডাকাত নির্মূলে কোনো ধরনের অভিযান না চালিয়ে বিভিন্ন সময় জেলেদের ট্রলারে অভিযান চালায়। এ সময় কোনো কোনো ট্রলারের কাগজপত্র, বয়া ও লাইভ জ্যাকেট না থাকলে সে ট্রলারগুলো আটক করে নিয়ে যায়। পরে ট্রলার ছাড়িয়ে নিতে কোস্টগার্ডকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা।
শুধু টাকাই নয় ট্রলা প্রতি দু’টি করে মাছ দিতে হয় কোস্টগার্ডকে। এছাড়া প্রতি বছর ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রলার প্রতি পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে অনেক জেলেদের সাগরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার আরিফ হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘কোস্টগার্ডের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে পারে। কোস্টগার্ডের কোনো সদস্য জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়নি।’
জনবল সঙ্কটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাকাতদের দমনে তাদের অভিযান অব্যহত আছে।’
পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান সোহেল বাংলামেইলকে বলেন, ‘পাথরঘাটা থেকে প্রতিদিন ইলিশবাহী ট্রাকগুলোকে ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হয়।
গত বছর অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা দিতে শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে হয়েছে পাথরঘাটার কালমেঘা গ্রামের নাসির মল্লিককে। বাংলামেইলকে তিনি বলেন, ‘কোন কাম না পাইলে ভিক্ষা কইরা খামু, তারপও সাগরে মাছ ধরতে যামু না। জলদস্যুগো লাডির প্রত্যেকটা পিডান অ্যাহনো মোর মোনে আছে। এই ইলিশ মাছ ধরতে যাইয়া বাপের দেয়া জমিডাও বিক্রি করতে হইছে।’
ডাকাতদের গুলি শরীরে নিয়ে এখনো বেঁচে আছেন পাথরঘাটার আরেক জেলে আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘চাঁর বছর আগে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে ডাকাতদের হাতে আটক হন তারা ১৪ জন। এ সময় ডাকাতদের একজনকে তিনি লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ডাকাতেরা তার ডান গালে ও মুখে পাঁচটি গুলি করে।’
তীরে আসলে চিকিৎসক কোনো মতে একটি গুলি বের করতে পারলেও বাকি চারটি গুলি এখনো শরীরে বহন করে বেঁচে আছেন তিনি।
সাগরে ডাকাতদের উৎপাত বেশি দিন থাকবে না আশ্বাস দিয়ে বিএফডিসি পাথরঘাটা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার এম সোলায়মান শেখ বাংলামেইলকে বলেন, ‘সরকার বিগত দিনে কয়েকবার যেভাবে পদক্ষেপ নিয়ে ডাকাত নির্মুল করতে সক্ষম হয়েছে। যদি আর একবার সেভাবে জোরালো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ডাকাতদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’