ঢাকাSaturday , 13 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজু হত্যার আসামি ৬ যুবলীগকর্মী অধরা

Link Copied!

Razu-pic
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর শাহবাগে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম আক্তারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্মমভাবে খুন হন প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন রাজু। ওই যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে রাজুর দুই ভাইকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে ওসি সিরাজুল ইসলাম রাজুর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়ে বের করে দেন। রাজুর মৃত্যুর পর ওই থানায় হত্যা মামলা হলেও তার ভাইদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে আক্তারের সহযোগীরা। অভিযোগ করা হয়- রাজু ও তার দুই ভাই জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি হামলা চালিয়েছেন! ওই মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে রাজুর দুই ভাই।

গত ১৪ আগস্ট ঘটে এ ঘটনা। তবে এখনো রাজু হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রাজুর বাবা সাব্বির আহমেদ শাহবাগ থানায় আক্তারসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
এজাহারভূক্ত ছয় যুবলীগ কর্মী এখনো অধরাই। নিহতের স্বজনেরা বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাদের পাচ্ছে না।

পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, ১৪ আগষ্ট রাতে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে দুই ভাই আবেদীন বাবু ও জয়নাল আবেদীনসহ রাজুর ওপর হামলা চালায় যুবলীগের কিছু নেতা-কর্মী। পরদিন হাতিরপুলের ব্রাইটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজুর মারা যান। পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম আক্তার তার সহযোগীদের নিয়ে এ হামলা চালায়।

রাজু কম্পিউটার প্রকৌশলে ডিগ্রি নেওয়ার পর সম্প্রতি পোশাক আমদানি ও রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ঘনিষ্ঠ বন্ধু আক্তারকে তিনি কয়েক বছর আগে চার লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। পরিশোধ না হওয়া কিছু টাকা চাওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা হয়।

হামলার পর রাজুর বাবা সাব্বির আহমেদ শাহবাগ থানায় মামলা করতে গিয়ে দেখেন সেখানে বসে আছে হামলাকারীরা। ওই সময় ওসি সিরাজুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা সাব্বিরকে ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। পরদিন রাজুর মৃত্যুর পর তার বাবা যুবলীগ নেতা আক্তার, পরিবাগ ইউনিট যুবলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলো, কর্মী রুবেল, পিচ্চি সুমন, ফারুক, আসাদ, জুয়েল ও রনির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে আক্তারের পক্ষে শাহবাগ ইউনিটের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে রাজুর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজুরা তিন ভাই মিলে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি হামলা করেছেন। তবে ১৫ আগস্টই পুলিশ যুবলীগ নেতা আলোকে গ্রেপ্তার করে। ২০ আগস্ট সাভার থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে প্রধান আসামি আক্তারকে।

মামলার বাদী সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ডিবি পুলিশ আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে যারা আমার ছেলেকে মেরেছে তাদের বেশিরভাগই এখনো ধরা পড়েনি। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ আমার দুই ছেলে তাদের মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিল হোসেন বলেন, ‘মামলাটি এখন ডিবি তদন্ত করছে। আমরা তদন্তে পেয়েছিলাম টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। আলোকে গ্রেপ্তারের পর সে স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

নিহত রাজু স্ত্রী রুবিকে নিয়ে আজিমপুরের ভাট মসজিদের পাশে ২১৯/১ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। বাবা সাব্বির আহমেদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ড মাস্টার। চট্টগ্রামের মুরাদপুরের নন্দলাইশের বাসিন্দা সাব্বির একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পরিবার নিয়ে সেন্ট্রাল রোডের ৭৩/১ নম্বর বাড়িতে থাকেন।