নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার বিচার বিভাগ ও সংবাদ মাধ্যমকে ভয় পায়। তাই বিচার বিভাগের মাথায় ফাঁসির আসামির মতো যমটুপি পরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার নামে সম্পাদকদের আসো আসো বলে ডেকে নিয়ে সোনার খাঁচায় বন্দি করেছে সরকার।
শুক্রবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এভাবেই সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।
‘তারেক রহমানের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।
‘আন্দোলন দিনক্ষণ ঠিক করে হবে না’ উল্লেখ করে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘৫ জানুয়ারির আগে গোটা দেশে যে আন্দোলন হয়েছে আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাসে এত বড় আন্দোলন কোনো দিন দেখি নাই। আমাদের মনে রাখতে হবে, আন্দোলন দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না, যে কোনো সময় যে কোনো জায়গা থেকে বিষ্ফোরণ ঘটতে পারে।’
‘এই মুহূর্তে বিএনপির জন্য আন্দোলন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পেছনে যাওয়ার আর রাস্তা নেই। মানুষের কাছে, জনগণের কাছে, বিএনপির কাছে এই মুহূর্তে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।’
‘ভবিষ্যতে তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার সম্ভবনা আছে’ মন্তব্য করে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি বুঝতে পেরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১/১১ ছিল সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনে বসে দেশ নিয়ে ভাবছেন, লেখাপড়া গবেষণা করছেন। সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে তিনি যদি কোনো কথা বলেন আওয়ামী লীগ তখন বাংলাদেশে বসে তারেক রহমানের ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে।’
তরিকুল বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেয়া হবে। দুর্নীতি শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। আওয়ামী লীগ যে ভুল করছে সে ভুল বিএনপি করলে জনগণ আর আমাদের চাইবে না।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘একটা সময় বলা হতো আওয়ামী লীগ অ্যাকশনে যেত বিএনপি তার রিঅ্যাকশন দিতো। তারেক রহমান সেই ধারা বদলে দিয়েছেন। তিনি এখন লন্ডনে বসে অ্যাকশনে যান, আওয়ামী লীগ তার রি-অ্যাকশন দেয়। এমন রিঅ্যাকশন দেয় যে, আওয়ামী লীগের জন্যই তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দীন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মুস্তাহিদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, মারুফ কামাল খান সোহেল, কামাল উদ্দীন সবুজ প্রমুখ।

