বগুড়া প্রতিনিধি
স্বপ্নেও ভাবিনি আমি কোন সহায়তা পাব। আমার কেউ নাই। কেউ কিছু দিয়েও যায়নি আর তোমরা আমার বাড়িতে এসে খাবার দিয়ে আমাকে বাঁচালে। এসইউবি’র ত্রাণসহায়তা একটি বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিলে রহিমা নামক এক বৃদ্ধা এ কথা বলেন। ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার বড়ইকান্দি গ্রামে ১৩০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য ও ১৫০ জন ব্যক্তিকে এডভেষ্ণার ক্লাবের উদ্যোগে ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হয়।
স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি)র জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার শেখ জিনাত শারমিন জিতু ও কো-কারিকোলার এক্টিভিটিজ এর এক্সিকিউটিভ আতিকুল ইসলাম বন্যাদুর্গতদের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি চিড়া, ১ কেজি গুড়, ১৫ টি ওর স্যালাইন ও ৩০ পিস করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। এ ছাড়াও দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে পোশাক প্রদান করা হয়েছে।
ত্রাণবিতরণপূর্ব বক্তব্যে শেখ জিনাত শারমিন জিতু বলেন, বন্যার কারণে দেশের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেলিভিশনে ও দৈনিক পত্রিকায় আপনাদের দুর্ভোগের করুণচিত্র দেখে ও পড়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এসইউবি’র ছাত্র-শিক্ষক, ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। আমাদের এই সীমিত ত্রাণসামগ্রী আপনাদের পরিবারে যদি সামান্য উপকারে আসে তাতেই নিজেদের ধন্য মনে করবো।
ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বলেন, বাবা বন্যা আমার সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এই অবস্থায় তোমাদের সহাযোগিতা পেয়ে খুব উপকৃত হলাম।
ত্রাণসহায়তা প্রদান করার জন্য বগুড়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. খোরশেদ আলমের সাথে তার কার্যালয়ে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেন, বন্যায় বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা এসে তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবে কিন্তু তা আর হয়নি। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে ধন্যবাদ আপনারা অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমার বিশ্বাস এটি যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মানুষের জন্য মানুষ হাত বাড়িয়ে দিবে এটিই সবার কাম্য আমরা তার ব্যতিক্রম নই।
ত্রাণবিতরণে সহায়তা করেন রুবায়েত, বাশার, শাকিব, পিয়াস, আল-আমিন, পানাম ও আরিফ।

