চলতি বছরের মে মাসে ৯ বছরে প্রথমবার র্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে নেমে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের এক ম্যাচ জিতে ৯ নম্বরে উঠেছিল টাইগাররা। এক মাসের ব্যবধানে আবার দশে নেমে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মূলত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অর্ধযুগ পর ওয়ানডে জয়ই দশে নামিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে এই অবনমনের সময়ে আগামী এক বছর এই ফরম্যাটে আরও বড় চ্যালেঞ্জিং সময় অপেক্ষা করছে শান্ত-মিরাজদের জন্য। গতকাল র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রকাশ করে আইসিসি। যেখানে পাকিস্তানেরও অবনমন হয়েছে এক ধাপ, তাদের পাঁচে ঠেলে শ্রীলঙ্কা উঠে গেছে চারে। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৭, তবে ভগ্নাংশের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের পয়েন্ট এখন ৭৮। সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে পাকিস্তানের কাছে যদি তারা হেরেও যায় তবু একই অবস্থান বহাল থাকবে। আর ১০২ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান পাঁচে ও ১০৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে শ্রীলঙ্কা। ১২৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়ানডের শীর্ষ দল ভারত, দুইয়ে আছে নিউজিল্যান্ড, তিনে অস্ট্রেলিয়া।
২০২৭ সালে হতে যাওয়া পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করতে র্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ দলের সেই আসরে স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত। বাকি ১২টি জায়গার আটটি পূর্ণ হবে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে, চারটি বাছাইয়ের মাধ্যমে। সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকা-জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপে খেলতে হলে ২০২৭ সালের ৩১শে মার্চের র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটের মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে হিসাব থেকে বাদ যাবে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ ও জিম্বাবুয়ে ১১ নম্বরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ দল এখন ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েও দশ নম্বরে আছে। টেস্টে আছে ৯ নম্বরে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে বাজে সময় কাটাচ্ছে বাংলাদেশ। আগে যে ফরম্যাট ছিল ভরসার জায়গা সেখানেও এখন প্রতিনিয়ত অধঃপতন হচ্ছে। চলতি বছর ৫টি ওয়ানডে খেলে জয় মাত্র ১টি। গত বছর খেলা ৯ ম্যাচে জয় ৩টিতে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রয়েছে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। ২০২৩ সালে ১১ জয় ৩৩ ম্যাচে। এর মধ্যে ৩ ম্যাচে কোনো ফল আসেনি। সবমিলিয়ে গেল ৩ বছরে এখন পর্যন্ত ৪৭ ম্যাচের মধ্যে ২৫ ম্যাচে ফল এসেছে। অর্থাৎ অর্ধেকের মতো ম্যাচেই ফল পক্ষে আসেনি। ২০২৩ সালে তামিম ইকবালের নাটকীয়ভাবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন সাকিব আল হাসান। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত পান এই ভার, তাকেও গত মাসে অব্যাহতি দেয়া হয়। নতুন অধিনায়ক এখন মেহেদী হাসান মিরাজ। এত ঘনঘন অধিনায়কত্ব বদল নিয়ে আছে সমালোচনাও। তবে ওয়ানডেতে যে অবনমন সেটা চলতেই আছে। আর তাতে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ নিতে না পারার শঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ আছে আর দুইটা, আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। দুইটাই দেশের বাইরে খেলতে হবে। আগামী বছরের প্রথম ৩টা ওয়ানডে সিরিজও দেশের বাইরে, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। অর্থাৎ আগামী প্রায় এক বছর দেশের মাটিতে কোনো ওয়ানডে সিরিজ নেই বাংলাদেশের। সেক্ষেত্রে বিদেশের মাটিতে সিরিজগুলোতে ফল পক্ষে না এলে র্যাঙ্কিংয়ে আরও অবনমন হতে পারে। আর নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিপক্ষে তাদের মাঠে জেতা বাংলাদেশের জন্য অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। ফলে আগামী এক বছর ওয়ানডে আরও চ্যালেঞ্জিং সময় অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য। তবে এই চ্যালেঞ্জে উতরাতে না পারলে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নাও হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে।

