জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল হককে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার (২৩ জুন) সকাল আটটার দিকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতের হাজতখানায় মনিরুলকে আনা হয়।
এছাড়াও আজ সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলামকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
সকাল ১০টার দিকে হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় আসামিদের সিএমএম আদালত কক্ষে তোলা হয়। কাঠগড়ায় তোলার পর একে একে আসামিদের দুই হাত পেছনে নিয়ে পরিয়ে দেওয়া হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয় পুলিশ।
রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সব থেকে বেশি মানুষ গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যাত্রাবাড়ীতে। যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ২০ থেকে ২৫টি লাশ স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। নির্বিচার সাধারণ ছাত্র-জনতাকে গুলি করার হত্যার ঘটনার সঙ্গে ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল সরাসরি জড়িত ছিলেন।
পিপির বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মনিরুলের আইনজীবী আদালতকে বলেন, তার মক্কেল ভীষণ অসুস্থ। হৃদ্রোগের কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়, তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দেওয়া হোক।
এ সময় আদালতে কথা বলার জন্য অনুমতি চান মনিরুল। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতকে বলেন, ‘আমার বুকে সার্জারি হয়েছে।’
এ কথা বলার পর মনিরুল তার পরনে থাকা পাঞ্জাবির বোতামগুলো খুলে ফেলেন। নিজের বুক দেখিয়ে তিনি বলতে থাকেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি খুব অসুস্থ। একের পর এক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।’
আদালত শুনানি নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার রিটন উদ্দিন হত্যা মামলায় মনিরুলের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
যাত্রাবাড়ীর আরেকটি হত্যা মামলায় মনিরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল রাষ্ট্রপক্ষ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে এই আবেদনটি নাকচ করেন আদালত।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

