নিজস্ব প্রতিবেদক
এ অবস্থায় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিভাবে সামলাচ্ছেন পররাষ্ট্রনীতি। বিষয়টি নিয়েই দেশটির দৈনিকগুলো একটি বিশ্লেষণ করেছে। বাংলামেইলের পাঠকদের সামনে সেই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো।
বেইজিং নিউজের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া সফরে যাওয়ার আগে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে তাজিকিস্তানে যাবেন জিনপিং। সেখানে কাজাখস্তান, কিরিগিজস্তান, উজবেকিস্তান ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসসিও মূলত সদস্য দেশগুলোর সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সংস্থা। এই সংস্থাটি দেখা হয় ন্যাটোর একটি বিকল্প সংস্থা হিসেবে।
মধ্য এশিয়া সফর শেষে তিনি যাবেন ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সফরে। চীনের পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞ জিয়া জিউদঙ্গের মতে, সেখানেই একান্ত বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বসবেন তিনি।
জিউদঙ্গ বেইজিং নিউজে লেখা বিবন্ধে উল্লেখ করেন, এ নিয়ে ২০১৪ সালেই চতুর্থবারের মতো সাক্ষাৎ করবেন পুতিন-জিনপিং। যদিও বিশ্বনেতারা ইউক্রেন সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত তারপরেও পুতিন-জিনপিং বৈঠকে নিজেদের পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি বিষয়ক আলোচনাই প্রাধান্য পাবে।
তিনি ভারত-চীন মৈত্রী প্রসঙ্গে বলেন, জিনপিংয়ের ভারত সফরের ঘটনাই ইঙ্গিত বহন করে যে দেশ দুটি নিজেদের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে সক্ষম। এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, দেশ দুটির পারস্তপারিক স্বার্থ পারস্পারিক বিবাদের থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অনেক ভালো জায়গাতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দুদেশেরই রয়েছে।
জিউদঙ্গের কথাই প্রতিধ্বনিত হয় দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ সান শিহাইয়ের কণ্ঠে। তিনি বেইজিং টাইমসকে বলেন, দু’দেশই নিজেদের অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক পরিবেশ উন্নয়নে মনোযোগী। এক্ষেত্রে দেশ দুটির সীমান্ত বিরোধের ব্যাপারে একটি প্রচারণা রয়েছে। তবে মোটের ওপর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
হু শিশেঙ্গ নামে চীনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকের মতে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জিনপিং-মোদি আগামী ৫ কিংবা ১০ বছরের জন্য নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঠিক করে ফেলবেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় কট্টোরপন্থী সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের ঘোষিত যুদ্ধে চীনের সরাসরি না জড়ানোর পরামর্শ এসেছে দেশটির বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষক মি জিনইউ এ সম্পর্কে গ্লোবাল টাইমসের চীনা সংস্করণে লিখেছেন। তার মতে, আইসের বিরুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণ করা উচিত হবে না। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে মধ্যপ্রাচ কিংবা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের পদাঙ্ক অনুসরণ করা চীনের জাতীয় শক্তিকেই বরং হ্রাস করবে।


