ঢাকাThursday , 7 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্যই সফল হবে

Link Copied!

নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিন মাস দেখতে দেখতেই পূর্ণ হয়ে গেল। যে কোন সরকারের ১০০ দিনের যে হানিমুন সময় ধরা হয় সেটা প্রায় শেষের পথে। তাই এ সরকারের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা তার কতটুকুপ্রাপ্তি হলো সে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে। ছাত্র জনতার এক অকল্পনীয় অভ্যূত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর ৮ আগস্ট বিশ্ব বরেণ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তকালীন সরকার গঠিত হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। দেশের মানুষ এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠে। আর মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণের অঙ্গিকার নিয়ে গত ৮ আগস্ট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সারাবিশ্বে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আর তার এই যাত্রাপথে সহযোদ্ধা হিসাবে নিয়েছেন আরও ২০জনকে। সব মিলিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অর্থাৎ দেশের মানুষের স্বপ্ন ও আশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন। এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আর কোন বিকল্প নেই। তাঁর সক্ষমতা, দক্ষতা, বিশ্বব্যাপি গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করে তিনি তার বিশ্বজনীনতাকে প্রমাণ করেছেন। ওই অধিবেশনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাকে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন সেটা তার প্রাপ্য। ওই অধিবেশনে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবকে যে ভাবে মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করেছেন তাতে তিনি বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অর্থাৎ দেশের মানুষের স্বপ্ন ও আশা পূরণে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার অবশ্যই সফল হবে এটাই সবার বিশ্বাস।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল ৭ নভেম্বর উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ তিন মাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ইতিমধ্যে তারা অনেকগুলো কাজ করেছে এবং কাজ করছে। আমরা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করি। আশা করি, তারা উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা দেশের মানুষের কাছে এবং সারাবিশ্বে সমাদৃত।নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি উঠেছে সর্বত্র। এ দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রশাসন, বিচার প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। এসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জনমালিকানা ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়ও অবদান রাখবে। এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে প্রাথমিকভাবে ৬টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককেএই কমিশনগুলির প্রধান করা হয়েছে।এর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন সরফরাজ চৌধুরী, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আছেন আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. আলী রিয়াজ পালন করছেন।প্রাথমিক ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের পর সরকার আরও চারটি কমিশন গঠন করেছে। এগুলো হলো-স্বাস্থ্য বিষয়ক, গণমাধ্যম বিষয়ক, শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত এবং নারী বিষয়ক। স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান হলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, গণমাধ্যম কমিশনে কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ এবং নারী বিষয়ক কমিশনের প্রধান হয়েছেন শিরিন পারভিন হক। গত অক্টোবর থেকে এসব কমিশন তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা আগামী ৩মাসের মধ্যে তাদের প্রস্তাবনা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পেশ করবেন। এরপর সরকার এ সব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে তা কার্যকর করবে।
সরকারের এই ৩ মাসে অনেক কাজই তাদের সফলতার ইঙ্গিতবহন করে। সরকারের গতি-প্রকৃতি, নীতি, কর্মসম্পাদনের দক্ষতা-অদক্ষতা ইত্যাদি এই সময়কালেই স্পষ্ট বুঝা যায়। বলা যায়, মর্নিং শোজ দ্য ডে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর গণআস্থা যেমন অনেক বেশি, তেমনি সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যশাও অনেক বেশি। সে প্রত্যাশাপূরণে সরকার এ সময় অনেক ভালো কাজ করেছে। তবে ৮৪ বছর বয়সী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণ্যের জোশ ও উদ্দীপনা নিয়ে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তার উপদেষ্টাদের অনেকে সে গতিকে ধারণ করতে পারছে না। কেউ কেউ বয়োভারে ন্যুব্জ ও অথর্ব। কেউ কেউ হলিডে মুডে আছেন। তারা সময় উপভোগ করছেন যেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে দুর্মুখেরা কটাক্ষ করে ‘এনজিওগ্রাম’ সরকার বলেন। উপদেষ্টাদের অনেকে এনজিও ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আসা বলেই এমন কটাক্ষ করা হয়ে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, উপদেষ্টাদের একাংশ সভা-সেমিনারে বক্তব্য দিতে যতটা আগ্রহী, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ততটাই নিরুৎসাহী। তবে এই সব সমালোচনাকে ছাপিয়ে তারুণ্যের উদ্দীপনাকে নিয়ে সরকার এগিয়ে চলেছে।
সরকার গঠনের প্রথমে চতুর্থদিকে যেমন বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা ছিল বা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র চলছিল তা ধীরে ধীরে অনেকটা থেমে গেছে। এই ৩ মাসে প্রশাসনে কিছুটা হলে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।স্বৈরাচারের নির্বিচার দলীয়করণ ও অপব্যবহারে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একবারে পেশাদারিত্ব হারিয়ে দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে এগুলোকে গণমুখী করতে পেশাদারিত্বে জায়গায় আনতে কিছুটা সময়তো অবশ্যই দিতে হবে। প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় স্বৈরাচারের অনেক দোসর এখনো বহাল তবিয়তে অবস্থান করছে। তারা সরকারকে পরিকল্পিতভাবে অসহযোগিতা করছে। এটা কারো অজানা নেই। সরকারও জানে। তাই নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। জঞ্জাল পরিষ্কার করে প্রসাশন ও পুলিশকে গতিশীল ও কার্যকর করতে যথাসময়ে সরকার অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকারকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম দায়িত্ব পাওয়া উপদেষ্টাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি তার কর্মদক্ষতা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থ উপদেষ্টা যোগ্য ব্যক্তি, ভেঙ্গেপড়া ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে গতি আনতে তিনি সমর্থ হয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ক্ষেত্রে তিনি অনেকটা সফল হয়েছেন। বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে ইতোমধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে শুরু করেছে।শিক্ষা, যোগাযোগ, সড়ক-সেতু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টারা কার্যত যার যার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট আছেন। আইন, বিচার, সংসদ, সংস্কৃতি ও প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই নিজেকে বিতর্কিত করে ফেললেও তিনি অনেক বিষয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। পরিবেশ উপদেষ্টা পরিবেশে ইন্নয়নে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে পলিথিন বন্ধে তিনি যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তা দেশবাসীর কাছে বেশ সাধুবাদ পাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি খাল পরিস্কার, নদী দখলমুক্ত করাসহ অভিন্ন নদীর পানি বন্টন বিষয়েও কাজ করছেন। উপদেষ্টা পরিষদে দু’জন তরুণ উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের অভিজ্ঞতা কম হলেও কাজের দিক দিয়ে অনন্য নজির ও পারঙ্গমতা প্রদর্শন করছেন।
গণঅভ্যূত্থান বা গণবিপ্লবের পর যে সরকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়, সেই সরকারকে বিপ্লবী সরকার বলে অভিহিত করা হয়। নজিরবিহীন গণআন্দোলনের ফলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এটাও বিপ্লবী সরকার বটে। তবে বাস্তবে বিপ্লবী চরিত্র এই সরকারের মধ্য এখনো দৃশ্যমান হয়ে ওঠেনি। অভ্যুত্থান বা বিপ্লব পরবর্তী সরকারের কোনো কাজের শেষ থাকে না। রাষ্ট্রকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে গঠন করা এবং রাষ্ট্রের বিবিধ প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও কার্যক্ষম করার সঙ্গে জনপ্রত্যাশা পূরণ করা তার অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হয়ে পড়ে। এ জন্য সব দিক দিয়ে চৌকস, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে এ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আর সরকার প্রধান হিসাবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিশ্ব বরেণ্য নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে সারা বিশ্বে অতুলনীয়। এমন এক বিশ্ব বরেণ্য নেতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক অনন্য ও সুন্দর বাংলাদেশ হিসাবে গড়ে উঠবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। ড, মুহাম্মদ ইউনূস বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে উজ্জীবিত তারুণ্যের দৃঢ়তা নিয়ে নিরলস কর্মসম্পাদনে ব্রতী হয়েছেন। তার নেতৃত্বে এ সরকার অবশ্যই সফল হবে। পূরণ হবে সব জনআকাঙ্খা।