ঢাকাTuesday , 22 October 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রসঙ্গ শেখ হাসিনার পদত্যাগ ইস্যুঃ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর নতুন ষড়যন্ত্র

Link Copied!

ছাত্র-জনতার এক সফল গণঅভ্যুত্থনে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেছে। এর পর ৮ আগস্ট নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়ান প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২ মাস ১৩ দিন পেরিয়ে গেছে। এত দিন পর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার নতুন ষড়যন্ত্র বলেই দেশের মানুষ মনে করে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করতে, প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করতে দেশে বিদেশে চলছে গভীর ষড়যন্ত্র। পুলিশ, র‌্যাব, প্রশাসন, আদালতসহ সকল সেক্টরে পালিয়ে যাওয়া হাসিনা সরকারের দোসররা বিভিন্নভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দেশজুড়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। শুরুতে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী দেশের বিভিন্ন জেলায় হামলা, ডাকাতি ও লুটপাট করে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তাদের সে চেষ্টাকে ছাত্র-জনতা সম্মিলিতভাবে রুখে দিয়েছে। এরপর জুডিশিয়াল ক্যু করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হয়েছে। আনসার বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে সচিবালয় ঘেরাও করে অস্থিতিশীলতা কৈরীর চেষ্টা হয়েছে। সব কিছু অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র-জনতার সমর্থনে সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে। তবে প্রায় ১৮ বছর ধরে হাসিনা সরকার সারাদেশে তার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী ও সংগঠন দিয়ে মানুষকে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও দখলদারিত্ব চালিয়ে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তা স্বল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী এবং আদালতেও স্বৈরাচার হাসিনার দোসররা রয়ে গেছে। তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ছাত্র-জনতার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু র‌্যাব, পুলিশ, প্রশাসন বা বিচার বিভাগই নয় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে দিয়েও গভীর ষড়যন্ত্র করেছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট হচ্ছে, তাদের মন্দিরে হামলা হচ্ছে এ ধরনের অপপ্রচার বেশ জোরালো ভাবে করা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এর কোন সত্যতা নেই। এসব মিথ্যা অপপ্রচারকে পুঁজি করে হিন্দু সম্প্রদায়কে মাঠে নামানো হয়েছিল। তারা শহবাগে প্রতিদিন বিক্ষোভ করেছে। তাদেরকে ইন্ধন দিয়েছে ভারত এবং সে দেশের অর্থে চালিত ইসকন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। আর এই হিন্দুদের বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা। বিবিসির এক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে হিন্দুদের ওপরে অত্যাচারের ভুয়া পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক অত্যাচার হচ্ছে বলে যেসব ভুয়া পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার বেশিরভাগই ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকাররা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকেও এধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এমনটাও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন। এ বিষয়ে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি এডভোকেট গোবিন্দ প্রামাণিক স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনা হিন্দুদের ওপর চেপে সঙ্কট উত্তরণের চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেরিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, বর্তমানে আবার কিছু নিরীহ হিন্দুদের ওপরে হামলা হচ্ছে। যাদের টাকা-পয়সা আছে, বাসার আশপাশে কিছু জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে তাদের ওপরে কিছু দুষ্কৃতকারী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করছে। এর মধ্যে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের একটা বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। সেখানে একজন বিএনপি নেতার কথা বলে ডাকাতি করেছে। এরপর তাদের আটক করার পরে দেখা গেল আওয়ামী লীগের কর্মী। আরেকটি জায়গায় একজন প্রতিমা ভাঙতে গেছে, তাকে হাতে-নাতে ধরার পরে দেখা যায় তার গায়ে বিএনপি’র একটি জার্সি। পরে ভিডিও ফুটেজে তার বক্তব্যে দেখা যায়, তাকে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা টাকা দিয়ে বিএনপি সাজিয়ে পাঠিয়েছে। হিন্দুদের কার্ড ব্যর্থ হওয়ার পর পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ ষড়যন্ত্রও সফল হয়নি। এরপর বিদুৎ সেক্টরের মাধ্যমে ভারতীয় এজেন্টরা তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই তাদের সফল হয়নি। তারপরও ভারত এখনো থেমে নেই। বাংলাদেশকে অস্থির করতে ভারত এখনো তাদের অনুগত পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে গোপনে নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রেরই নতুন উপসর্গ শেখ হাসিনার পদত্যাগ বিতর্ক। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তার পদত্যাগ নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল। হাসিনার ছেলে জয় প্রথম এ বিতর্কের জন্ম দেন। তিনি বিদেশে বসেই বলেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। তিনি এখনো দেশের বৈধ প্রধান মন্ত্রী। তবে তার এ কথা হালে পানি পায়নি। বলা যায় এ বিষয়টি নিয়ে আর কেউ কোন কথা বলেনি। তবে গত ১৯ অক্টোবর সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার ভিত্তিক একটি লেখা প্রকাশের পর এ বষয়টি নিয়ে আবার নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ‘উনি তো কিছুই বলে গেলেন না’ এ শিরোনামে প্রকাশিত লেখায় বলা হয়েছে,‘প্রশ্ন করলাম আপনার কাছে কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ পত্রটা আছে? আমি শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু আমার কাছে কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়তো সময় পাননি। ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে দশটায় বঙ্গভবনে ফোন এলো প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে। বলা হলো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন মহামান্য প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য। এটা শুনেই প্রস্তুতি শুরু হলো বঙ্গভবনে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ফোন এলো তিনি আসছেন না। প্রেসিডেন্ট বললেন, চারদিকে অস্থিরতার খবর। কী হতে যাচ্ছে জানি না। আমি তো গুজবের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। তাই সামরিক সচিব জেনারেল আদিলকে বললাম খোঁজ নিতে। তার কাছেও কোনো খবর নেই। আমরা অপেক্ষা করছি। টেলিভিশনের স্ক্রলও দেখছি। কোথাও কোনো খবর নেই। এক পর্যায়ে শুনলাম, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আমাকে কিছুই বলে গেলেন না। যা সত্য তাই আপনাকে বললাম। যাই হোক, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যখন বঙ্গভবনে এলেন তখন জানার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না? একই জবাব। শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর। সব কিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এলো তখন একদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট বললেন, এ নিয়ে আর বিতর্কের কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন এটাই সত্য। তারপরও কখনো যাতে এ প্রশ্ন না উঠে সে জন্য সুপ্রিম কোর্টের মতামত নিয়েছি।
একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কোন দেশের সরকার প্রধান ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গেলে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই অবান্তর। তারপরও শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সেনা প্রধান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর প্রেসিডেন্ট নিজেও জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এটা বলেছেন। আর তার আলোকে তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্ঠাদের শপথ পড়িয়েছেন। এখন তিনি বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোন দালিলিক প্রমাণ নেই। তার এ কথায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুতে আবারও নতুন করে বিতর্কের শুরু হয়েছে। যদিও এটি একটি অবান্তর ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক। প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আবার মীমাংসিত বিষয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল কিংবা বিব্রত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২১ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শিপলু জামানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো, ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতার ওপর যত ধরনের প্রশ্ন জনমনে উদ্রেক হয়েছে, সেগুলোর যাবতীয় উত্তর স্পেশাল রেফারেন্স নং-০১/২০২৪ এ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গত ৮ আগস্ট, ২০২৪ এর আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ২১ অক্টোবর সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট যে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি। এটা হচ্ছে মিথ্যাচার এবং উনার শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কারণ, উনি নিজেই ৫ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটে পেছনে তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী উনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং উনি তা গ্রহণ করেছেন। এখন বলছেন তার কাছে প্রমাণ নেই। তার এ বক্তব্য শপথ ভঙ্গের শামিল এবং প্রেসিডেন্ট পদে থাকার যোগ্যতা আছে কি না- সেটা নিয়ে সরকার আলোচনা করবে।