রাজধানীতে দামী গাড়িতে চড়ে ছিনতাই করে এমনই একটি চক্রের সক্রিয় এক সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার নাম সোহেল রানা ওরফে সোহেল (২৯)।
গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় দিকে তাকে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রাজধানীর উত্তরায় গত ৩ জুলাই সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটনকে (৩৮) গুলি করে হত্যা ও ফাতেমা তুজ জহুরা (১৭) নামে এক নারীকে অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল আহাদ ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম নাজমুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা জানায়, তাদের দলনেতা ছিলেন শফিক ওরফে আপন। আপন, রনি, শিমুল, আলামিন ও সোহেল একত্রে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাদা রংয়ের এফ প্রিমিও গাড়িতে ছিনতাই করে।
সোহেল আরও জানান, গত ৩ জুলাই সাড়ে ৯টার দিকে সহযোগী রনি তাকে ফোন করে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের গোড়ায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রাইভেটকারে শফিক ওরফে আপন, রনি, শিমুল ও আল আমিনকে দেখতে পায়। পরে তারা একত্রে এফ প্রিমিও প্রাইভেটকারে প্রথমে গুলশান এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে যায়। সেখানে একটি মেয়েকে জোর করে গাড়িতে তোলার পর সাংবাদিক পরিচয় দিলে গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর তারা যায় উত্তরায়। তারা উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৪ নম্বর সেক্টর এলাকায় একটি সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামায়। পরে জোর করে ওই মেয়েটিকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে কিছু লোক প্রতিরোধে এগিয়ে আসে।
প্রতিরোধকারীদের সঙ্গে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটনও ছিলেন।
সেসময় আপন প্রতিরোধকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সিকিউরিটি গার্ড লিয়াকত হোসেন লিটন নিহত হয়।
অন্য একজন প্রতিরোধকারীকে সোহেল রানা চাপাতি দিয়ে আঘাত করে মেয়েটিকে নিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জের দিকে নিয়ে যায় বলে সোহেল পুলিশকে জানায়।
তিনি আরো জানান, তাদের দলনেতা আপন মেয়েটিকে গাড়ির মধ্যেই শারীরিক নির্যাতন করে এবং অন্যরা পাহারা দেয়। পরের দিন ভোরে তারা মেয়েটিকে উত্তরা এলাকায় নামিয়ে দিয়ে যায়।
তাদের দলনেতা আপন গত ১৭ জুলাই রাতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে হাতিরঝিল এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায়। সেদিন সোহেল এবং অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে ডিবি পুলিশ একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি, তিন রাউন্ড গুলির খোসা ও তিনটি মোবাইল ফোন এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রংয়ের প্রিমিও প্রাইভেটকার জব্দ করে।


