বগুড়া প্রতিনিধি : ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যার দায়ে ২ যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এসএম সাইফুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে বিদ্যুৎ (২৬) ও একই এলাকার জিল্লাল হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ দুপুরে নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়া এলাকার খোরশেদ আলীর শিশু কন্যা খুশি (৬) পার্শ্ববর্তী নিশিন্দারা ফকির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেখতে যায়। এ সময় আসামিরা খুশিকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে। এরপর আসামিরা ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নিহত খুশির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বাঁশঝাড়ে ঝুলিয়ে রাখে। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা খোরশেদ আলী বগুড়া সদর থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী সন্দেহজনকভাবে পরদিন বিদ্যুৎ ও রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা খুশিকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এরপর থেকেই আসামিরা জেল-হাজতে ছিল।
একই বছরের ৩০ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে সোমবার বাদী ও আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়।
বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনাকালী আইনজীবী ও বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ পিপি মন্তেজার রহমান মন্টু জানান, রায়ের আদেশে আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছাড়াও একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা আদায় করে মামলার বাদীকে দেয়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করে অ্যাড. আব্দুল বারী আকন্দ ও অ্যাড. জিল্লুল হক।

