ঢাকাFriday , 2 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঐক্য গড়তে ব্যর্থ শামীম ওসমান

Link Copied!

 নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বার বার ঐক্য গড়ার কথা বলে আসলেও কোটা আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে ‘তিনি আসলে ঐক্য গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন।’ যদি ঐক্য থাকতো তাহলে প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এমন তান্ডবনীলা আন্দোলনকারিরা চালাতে পারতো না। সকল আওয়ামী লীগাররা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে শহরের এক জনসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শামীম ওসমান বলেছিলেন, আমরা সব সময়ই প্রস্তুত থাকি। শুধু একবার ডাকবেন। গভীর রাত হলেও শুধু আধা ঘণ্টা সময় দেবেন। নারাণয়গঞ্জ ঠিক রেখে ঢাকায় লাখো লোক নিয়ে হাজির হবো। তিনি এও বলেছিলেন, সামনে থেকে যদি ১০ হাজার লোক আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের একজনই যথেষ্ট। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে হলো নারায়ণগঞ্জের কর্মীরা দেশ রক্ষায় যে কোনো আত্মত্যাগে এগিয়ে আসবে। সারা বিশ্বের কাছে মাথানত করতেই শেখ হাসিনা সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অশুভ শক্তি। কিন্তু মনে রাখবেন- শেখ হাসিনা কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তিনি দেশের মাথা নিচু করতে দেবেন না। ৭১-এ গান ছিল বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। আর আজকে আমাদের গান বীর বাঙ্গালী ঐক্য গড়ো, বাংলাদেশ রক্ষা করো, দেশ রক্ষায় দরকার শেখ হাসিনা সরকার। তাই পরিষ্কার বলতে চাই- দেশ রক্ষায় দেশী ও বিদেশী স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো সময় যে কোনো ডাকে নারায়ণগঞ্জে শেখ হাসিনার কর্মীরা সদা প্রস্তুত রয়েছে। তবে তার সেই কর্মীরা যে কতটা প্রস্তুত ও ঐক্য গড়তে পেরেছে, তার প্রমাণ মেলেছে কোটা আন্দোলনের সময়। যখন আড়াই ঘন্টা ধরে শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আন্দোলনকারিরা হামলা, ভাংচুর, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালালো, তখন তার কোন কর্মী সমর্থকরা একটুও এগিয়ে আসেনি। শুধু ঘাপটি মেরে বসে ছিলো অজ্ঞাত স্থানে। ভয়ে ডরে সব কর্মীরাই তখন কুপকাত হয়ে, বলতে গেলে অনেকটা গা ঢাকা দিয়েছিলো। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের ভয়ের কি ছিলো আমরা বুঝতে পারছিনা। তাদের সাথে প্রশাসন ছিলো। তারা যদি সেদিন মাঠে নামতেন, তাহলে আন্দোলনকারিরা এত ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারতো না। ঐক্য আর সঠিক নেতৃত্বের অভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দলটির আজ দৈন্যদশা। এ ঘটনায়তো এটাই প্রমাণ হয়েছে। কেউ দায় এড়াতে পারবেন না। একজন বলবেন, আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ছিলো না। আমরা বলবো ভাই দল ছেড়ে দেন। আগুন যখন আমার বাড়ির আঙ্গিনায়, তখন আপনি কার দিকনির্দেশনার অপেক্ষা করবেন। আগেতো আগুন থামাতে যাবেন। সুতরাং যখন তারা (আন্দোলনকারিরা) দুই নং রেলগেটে অবস্থান করছে এবং প্রস্তুতি নেয়ার মতও যথেষ্ট সময় ছিলো তখন কেন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার উচিত ছিলো। আপনারা সেটা করেন নাই। কারণ আপনারা ব্যর্থ। দল এত বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আপনাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, এ ঐক্য গড়ে না উঠার পেছনে শামীম ওসমান দায়ী। কেননা, তিনি বার বার ঐক্যের ডাক দিয়েছে। কিন্তু ডাক দিয়ে নিজেই ঐক্য থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। আমরা দেখেছি, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের যত কমিটিই হয়েছে, সেই কমিটিতে শুধুমাত্র তার লোক বা সমর্থকরেই স্থান দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু কেন? আওয়ামী লীগতো তার একার নয়। তিনি যদি ওই কমিটি গুলো করার আগে সকলের সাথে আলোচনা করে করতেন, তাহলে কমিটি গুলো শক্তিশালী হতো। নিজেদের মধ্যে বিদ্রোহ হতো না। আর এ বিদ্রোই হচ্ছে ঐক্য ভাঙার মূল কারণ। যার ফলে এমন ধ্বংসযজ্ঞের সময়ও কেউ মাঠে নামতে চায় না।