ঢাকাSaturday , 26 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীর মিরপুরে মধ্যরাতে এনজিওর ক্লিনিক গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর ক্লিনিকটির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত ক্লিনিকটিতে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে একজনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করা হয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম মামলা ও তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার রাতে ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি মুখ লুকিয়ে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানারে ক্লিনিকটিতে প্রবেশ করেন। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ক্লিনিকের একটি পাকা ও তিনটি সেমি-পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন। পরে ধ্বংসস্তূপের ওপর সমমনা দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ, ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্লিনিক থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ টাকার ওষুধ ও ভ্যাকসিন, আনুমানিক ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্টিলের আলমারি, ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া একটি অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। ক্লিনিকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং সরকারি ইপিআই টিকাদান কর্মসূচির সেবা দিয়ে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে এখান থেকে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা উচ্ছেদের বিষয়ে তারা আগে থেকে পুলিশ কিংবা কোনো সরকারি দপ্তরের কাছ থেকে কোনো নোটিশ পায়নি। তাদের দাবি, হঠাৎ গভীর রাতে ট্রাক ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে স্থাপনাটি উচ্ছেদ ও ভাঙচুর করা হয়।

তবে জমিটির মালিকানা নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির দাবি, ২০০৬ সালে জমিটি তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং ২০২১ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) থেকে জমিটি তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ক্লিনিকটি উচ্ছেদের জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিশনার কাসেম মোল্লাসহ অন্য নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন জমিটি উদ্ধার বা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাদের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও সমিতির সদস্যরা জমিটি ভোগ করতে পারছিলেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, হামলা ও ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতির পরও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কেন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

ঘটনায় মো. হানিফ মিয়া (৫০) নামে একজনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। এখন তদন্তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল এবং জমির মালিকানা ও উচ্ছেদের দাবির পক্ষে কী ধরনের বৈধ নথি রয়েছে সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।