ঢাকাFriday , 2 August 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোটা আন্দোলনে নিহত হোসেন; কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মায়ের আর্তনাদ

Link Copied!

আমার স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে কাজের উদ্দ্যেশে ঢাকাতে চলে যাই। সেখানে গিয়ে ইট ভেঙ্গে টাকা উপার্জন করে সংসার পরিচালনা করেছি। ছেলেকে তিলেতিলে বড় করেছি। সে যখন বড় হয়েছে, নিজেই বুঝতে শুরু করেছে তখন ঢাকাতে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ট্রাক চালাতে শুরু করে। তাকে বিয়ে করানোর পর তার দুইসন্তান জন্ম গ্রহণ করে। ছেলের কর্মের টাকা আর আমার ইট ভাঙ্গা টাকা দিয়ে কোন রকম পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে জীবন পার করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি আজ। কিভাবে জীবন পার করবো দুই নাতনি ও পুত্র বধূকে নিয়ে। কোন কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছিনা। এভাবে কান্না জড়িত কন্ঠে কথা গুলো বলেছেন, কোটা দাবীতে বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলনে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁদ উদ্যান গেটে শিক্ষার্থী-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত মো. হোসেনের মারিনা বেগম। হোসেনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার মা ও স্ত্রীসহ দুইসন্তান।
বাকরুদ্ধ দুইসন্তান ও মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ীর পরিবেশ। ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৩ টার দিকে হোসেন মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান গেটে ট্রাক বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরদিন তাকে গ্রামের বাড়ীতে এনে দাফন করে পরিবার। নিহত হোসেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানাধীন নীলকমল ২নম্বর ওয়ার্ডে  বাসিন্দা মৃত জাফরের ছেলে। সরজমিনে বুধবার নিহত হোসেনের বাড়ীতে গিয়ে দেখাযায়, একমাত্র কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মারিনা বেগম। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে তার স্ত্রী হাসনুর বেগম চুপচাপ বসে আছেন ঘরের এক কোনে। বাবাকে হারিয়ে আর্তনাদ থামছেনা দুই মেয়ে ও স্বজন-প্রতিবশীদের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুইকন্যা সন্তান মা ও স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদ এলাকার লাউতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। পরিবারে আয়-রোজগার করার মতো হোসেন ছাড়া তাদের আর কেউ নেই। হোসেনের মৃত্যুতে দুই মেয়ে সন্তান আকলিমা (৫) ও সিমা (৩) তাদের ভবিষ্যাত এখন অনিশ্চিত। সরকার যেনো এই অস্বচ্ছল পরিবারকে সহযোগিতা করে পাশে থাকে একটাই দাবী পরিবার ও এলাবাসীর। নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন লিখন জানান, নিহত হোসেন পরিবারটি একটি হত-দরিদ্র পরিবার। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে যেকোন সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। দুলাহাট থানারও সিমাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, আমি নিহতের ঘটনা শুনছি। থানায় কোন অভিযোগ করেনি। তাদের কোন তথ্য উপাথ্য আমাদের কাছে নেই। এ ছাড়াও ঢাকাতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কিশোর সিয়াম (১৫), যুবক মো. হাছনাইন আহম্মেদ (২৬)। কিশোর বাহাদুর হোসেন মনির (১৬), কিশোর সোহাগ (১৫) ।