ঢাকাFriday , 26 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাদারীপুরে নিহত ৩, প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

Link Copied!

মাদারীপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ছাত্রলীগ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তাণ্ডবে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এখনো ধ্বংসের ক্ষত রয়েছে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়ে বুধবার ২৪ জুলাই বলে বিকেলে এসব তথ্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল ইসলাম।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনে ঢুকে পড়ে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় নাশকতাকারীরা শহরে ও মস্তফাপুরে তাণ্ডব চালায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আ’লীগ কার্যালয়, মস্তফাপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্স, মস্তফাপুর বাস কাউন্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। সার্বিক ইন্টারন্যাশনালের সব ফিলিং স্টেশন, সব বাস ডিপো, লঞ্চঘাটের ১নং পুলিশ ফাঁড়ি,জাতীয় মহিলা সংস্থার কার্যালয়েও। নবনির্মিত পৌর মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এবং সার্বিক পরিবহনের ৩২টি বিলাসবহুল বাস, একটি লরি, একটি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি পেট্রোল পাম্পের মেশিন, ৫টি মোটরসাইকেল। দুর্বৃত্তদের ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সার্বিক পরিবহন, পেট্রোল পাম্প ও অন্যান্য সম্পদ। সার্বিক ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার গোপাল চন্দ্র হালদার জানান, এ সবের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি। শনিবার জেলা প্রশাসন থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান করা হয়েছিল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার রহমানকে। এ ছাড়া বাকি দুই সদস্য হলো এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া ও সহকারী পরিচালক মোঃ নুর হোসেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পরে মঙ্গলবার রাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসনের হাতে রিপোর্ট প্রদান করেন কমিটির সদস্যরা। এর আগে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ছাত্রলীগ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। দু’দিনে ৩জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ ও ছাত্রলীগের তাড়া খেয়ে শকুনী লেকের পানিতে ডুবে আমিরাবাদ এলাকার স্বপন দের ছেলে দীপ্ত দে নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। অর্ধশত পুলিশসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। এছাড়াও শুক্রবার বিকেলে পেট্রোল পাম-খাগদী এলাকার ঘটনায় রোমান বেপারী ও তাওহীদ সন্ন্যামাত নামের দুজন নিহত হন। এদিকে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় শহরের বিভিন্ন এলাকার মূল্যবান সম্পদ ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। প্রতিটি হামলার ঘটনায় অংশ নেয় শত শত মানুষ। অন্যদিকে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে ৪টি দায়ের করা হয়েছে। এতে তিন শতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও দেড় থেকে দুই হাজার আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা দুই দিন রণক্ষেত্রের পর মাদারীপুরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাসি চৌকি। কাজ করছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা।