ঢাকাMonday , 15 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষেতলালে মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরির অভিযোগ

Link Copied!

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে হোপপীরহাটা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে ভূয়া ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যেমে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, উপজেলার হোপপীরহাটা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য গত ৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ৭ জুলাই থেকে অভিভাবক সদস্য পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করা হয়। এদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে ভূয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও গোপনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আমিনুর রহমান সহ লিখিত আকারে যৌথ একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘোষিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মাদ্রাসাটির ইফতেদায়ী শাখা থেকে দাখিল শ্রেণি পর্যন্ত ১৭০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ওইসব শিক্ষার্থীদের পরিবারের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ফিহাদ বাবু নামে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসায় পড়াশুনা না করেও তার বাবা আনোয়ার হোসেন এর নাম ভোটার তালিকায় উঠে এসেছে।একই ভাবে মাদ্রাসাটির নবম শ্রেণিতে না পড়েও নাজিফা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর বাবার নাম ভোটার তালিকায় নাম পেয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম পাওয়া নূর মোহাম্মদ এর মেয়ে সুরভী আক্তার মাদ্রাসাটির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী দাবি করা হলেও ওই শ্রেণিকক্ষের চেনেন না কেউ। এদিকে ৫ম শ্রেণির ভোটার তালিকায় ২২ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও নিয়মিত ক্লাস করেন মাত্র তিন জন। বাঁকিরা সারাবছরই থাকেন অনুপস্থিত ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ এর বাবা এবিএম মাসুদুর রহমান তার সন্তানকে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে তিনিও ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসাটিতে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দাখিল ও এফতেদায়ী স্থরের প্রতিটি শ্রেণিতে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী। ইফতেদায়ী প্রথম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস করেন ৩জন, ২য় শ্রেণিতে- ২জন, ৩য় শ্রেণিতে ৩জন, ৪র্থ শ্রেণিতে করেন ৫জন। এছাড়াও ৫ম থেকে ১০ম প্রত্যেক শ্রেণিতে ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম দেখিয়ে অভিভাবক সদস্যদের ভোটার তালিকা প্রস্তুতের অভিযোগ রয়েছে। ৩য় শ্রেণীর আফরিন খাতুন, তানজিল হোসেন, শাহিনা খাতুন, মোমেনা খাতুন, শরিফুল ইসলাম, আবুল হোসেন, ইশহাক আলী এরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নন। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন হাফেজীয়া মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন। অথচ, তাদের অভিভাবকদের নামও ভোটার তালিকায়। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম শিহাব, জান্নাতুল আক্তার ও নাজমিন নাহার নাজু। ভোটার তালিকায় তাদের নাম থাকলেও তারা ৩ জনই বিবাহিত। তারা প্রত্যেকেই স্বামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমিনুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, মাদ্রাসার সুপার জহুরুল ইসলাম ও বর্তমান সভাপতি খলিলুর রহমানের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে একাধিক অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছে। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় দুটি কর্মচারী নিয়োগ হবে। একারণে ভূয়া ভোটার তালিকা দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে কমিটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন মাদ্রাসা সুপার। অবিলম্বে এই তফসিল বাতিল করে পুণরায় ভোটার হালনাগাদ ও সংশোধন করে পূণঃ তফসিল ঘোষনার দাবি জানাই। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ জহুরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকরা রেজিষ্টার দেখে ছাত্র-ছাত্রীদের নাম ঠিকানা দিয়েছে; আমি তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছি। একটু যোগ বিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠান টিকে রাখা যায় না৷ মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপির হাত আমার মাথার উপরে রয়েছে। সবার চাইতে আমার উপরে একটু বেশিই আছে। তাই আমি কিছু অনিয়মের তোয়াক্কা করিনা। এ বিষয়ে স্বাক্ষাতে কথা হবে।এ বিষয়ে জানতে নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আদনান মেহেদি বলেন, ইউএনও স্যার এই প্রথম আমাকে নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছেন। ভোটার তালিকা দেখে তফসিল ঘোষণা করেছি। মাদ্রাসার সুপারকে ডেকে ভোটার তালিকা সঠিক না হলে তফসিল বাতিল করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ এই তালিকা নিয়ে আমি কখনো নির্বাচন করব না৷ উপজেলা নির্বাহি অফিসার উম্মে তাবাসসুম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।