চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রায় আট বছর ধরে বন্ধ। কিন্তু ছাত্রসংসদ না থাকলেও থেমে নেই এর নামে টাকা আদায়। প্রতি বছর বার্ষিক নিবন্ধনের ( লেভেল রেজিস্ট্রেশন) সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদের নামে ৯০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
সেই হিসেবে গত আট বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আদায় করা এ টাকা কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে তা জানাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আশুতোষ সাহা বলেন, ’ছাত্র সংসদ না থাকলেও সংসদের টাকা ছাত্রদের উ
ন্নয়নেই ব্যয় হচ্ছে। পার্থক্য শুধু ছাত্র সংসদ থাকলে তা ছাত্র নেতাদের হাত দিয়ে খরচ হতো, এখন আমাদের হাত দিয়ে হচ্ছে’।
জানা যায়, ২০০৫ সালে চুয়েটে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০০৬ সালে। এরপর আর কোন নির্বাচন হয়নি। ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনের সাত দিন আগে তা স্থগিত করে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের পর থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক হাজার আটশ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রতি বার্ষিক নিবন্ধনের ( লেভেল রেজিষ্ট্রেশন) সময় মাথাপিছু ৯০ টাকা করে ফি আদায় করা হয়। সে হিসেবে সর্বশেষ নির্বাচনের পর থেকে এ খাতে আদায় করা টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
ছাত্র সংসদের কার্যক্রম না থাকলেও বছরের পর বছর ফি আদায় চলছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
তড়িৎ কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আলম বলেন, ’বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর চার বছর পার হয়েছে। এখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেখলাম না, অথচ এর জন্য প্রতি বছরই ফি দিয়ে যাচ্ছি’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে নির্বাচন বন্ধ থাকলেও যেকোন সময় সরকারি নির্দেশ সাপেক্ষে পুনরায় ছাত্র সংসদ চালু করা হবে। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আদায় করা টাকা ছাত্র সংসদের নির্ধারিত তহবিলেই জমা আছে।

