হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে টাঙ্গাইল পৌর শহরের আকুরটাকুর মৌজার ২ একর ৭ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন পদ্মমনি পুকুর (বড় পুকুর) লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল পৌরসভা জনৈক সাজ্জাদ হোসেনকে এই লিজ প্রদান করে পৌর কর্তৃপক্ষ। অথচ পুকুরটির মালিকদের দাবি, কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র ব্যতীত মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ এই পুকুরটি লিজ দিয়েছে।জানা গেছে, ১৯৭০ সালের ২৯ এপ্রিল মঙ্গলহোর গ্রামের তায়েব উদ্দিন খানের কাছ থেকে ২০৭ শতাংশ ভূমি ৬৮৭৩ নং সাব কবলা দলিল মূলে মির্জা জায়নুল আবেদিন ওরফে তুলা মিয়া ক্রয় করেন। এছাড়া ১৯৬০ সনের ৪ নভেম্বর ৯৭২৩ দলিল মূলে আরো ০৯ শতাংশ ও ১৯৬২ সনের ২৩ জুন ৩৭৩৩ দলিল মূলে ১২ শতাংশ তৎকালীন জমিদার নবকুমার রায় চৌধুরীর নিকট হতে মির্জা জায়নুল আবেদিন ভূমি ক্রয় করেন ও দখল বুঝিয়া নেন। এছাড়া জমিদার নবকুমারের মৃত্যুর পর তাহার পূত্র মনোরঞ্জন রায় চৌধুরীর নিকট হতে ১৯৬৯ সালের ৭ মে ৪৫৫৮ নং সাব কবলা দলিল মূলে ৩১ শতাংশ ভূমি ও ১৯৭০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৬৬৩ দলিল মূলে আরো ৩ শতাংশ মোট ৩৪ শতাংশ সাব কবলা দলিল মূলে মির্জা জায়নুল আবেদিন ওরফে তুলা মিয়া ক্রয় করেন। তিনি তায়েব উদ্দিন খান, নবকুমার রায় চৌধুরী ও তার পূত্র মনোরঞ্জন রায় চৌধুরীর নিকট হতে সাকুল্যে পুকুর ১ একর ৮৩ শতাংশ ও পুকুর পাড় ৭০ শতাংশ মোট ২ একর ৫৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। উক্ত ভূমি ক্রয়ের পর থেকেই তিনি আকুরটাকুর মৌজার সিএস খতিয়ান ১৫৯, এসএ খতিয়ান ১৮৭ মূলে ভূমির খাজনা ও পৌর কর নিয়মিত ভাবে প্রদান করে আসিতেছিলেন। ২০০৩ সালে মির্জা জায়নুল আবেদিনের মৃত্যু হইলে তাহার ওয়ারিশগণ পূত্র মির্জা আসফ আলী, মির্জা আলী আসগার, মির্জা আওলাদ হোসেন ও মির্জা নূরুল গণি এবং কন্যা মির্জা নাহিদ উক্ত সাকুল্য সম্পত্তি ভোগ দখল করিয়া আসিতেছেন। ওয়ারিশগণ পুকুর পাড়ে পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত ৬টি বহুতল ভবন নির্মাণ করিয়া বসবাস করিতেছেন। এছাড়া উক্ত পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে পৌরসভার অনুমোদিত নকশায় ১১৬ ফুট দীর্ঘ একটি বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেছেন ওয়ারিশগণ।
এ বিষয়ে মির্জা আওলাদ হোসেন বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দায়ের করেছে। দীর্ঘদিন যাবত আমরা এই পুকুরটি ভোগদখল করিয়া আসিতেছিলাম। হঠাৎ পৌর কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর টাঙ্গাইল পৌরসভার টাং/পৌ/প্রবি/বাশা-২৩৪৮ স্মারক মূলে জনৈক সাজ্জাদ হোসেনকে এই লিজ প্রদান করেন। যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান। যার মামলা নং – সিভিল রিভিশন নং-৩৩/২০২১। পৌর কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে পুকুরটি লিজ প্রদান করে। যাহা আদালত অবমাননার সামিল।তিনি আরো বলেন, পুকুরটির মালিকানা দাবির স্বপক্ষে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন বৈধ কাগজ আদালত দেখাতে পারেনি। এবিষয়ে বিভিন্ন সময় আদালত তাদের নিকট পুকুরের দলিল চেয়ে নোটিশ প্রদান করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ তা আদালতে দাখিল করিতে ব্যর্থ হয়। উল্টো পৌর কর্তৃপক্ষ কাগজ পত্র দাখিলের দায় হইতে অব্যহতি চেয়ে আবেদন করেন।তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ আদালতে কাগজ পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হলে আমরা মামলাটি খারিজ চাহিয়া হাইকোর্টে রিভিশন করি, যা বর্তমানে চলমান। হাইকোর্ট মামলাটি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুকুরটিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। যা পৌর কর্তৃপক্ষ অমান্য করে লিজ প্রদান করেছে। এ সময় তিনি বলেন, ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল পৌরসভা কর্তৃক প্রকাশিত উন্নয়ন পরিক্রমায় পৌরসভা তাদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিরবণ দিলেও পদ্মমনি পুকুরের নাম সম্পদের বিবরণীতে উল্লেখ করে নাই। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট কোন বৈধ কাগজ পত্র নেই, তাই বিবরণীতে উল্লেখ করতে পারে নাই।স্থানীয় নীল কমল পাল, গোবিন্দ চন্দ্র পাল এবং ওমর ফারুক খান মানিক বলেন,আমাদের জানা মতে তুলা মুক্তার ও তার সন্তানরা এই পুকুর ও পুকুর পাড়ের মালিক। এই পুকুর ও পুকুর পাড়ের জায়গা ক্রয় করিয়া পুকুরে মাছ চাষ, পুকুর পাড়ে কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মাণ করিয়া ভাড়া প্রদান ও নিজেরা স্বপরিবারে বসবাস করিয়া আসিতেছেন তারা। পৌর কর্তৃপক্ষ কোন্ কাগজ বলে পুকুরটি লিজ দিয়েছেন এটা আমাদের জানা নেই। এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা দেওয়ার পূর্বেই পুকুরটি পৌর কর্তৃপক্ষ লিজ দিয়েছে। কোন্ কাগজ বলে পৌর কর্তৃপক্ষ পুকুরটি লিজ দিয়েছে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় এই মূহুর্তে পৌরসভার মালিকানা কাগজ দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।

