ঢাকাSaturday , 13 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোংলার সাবেক মেয়র জুলফিকারের বিরুদ্ধে পিবিআইয়ের তদন্ত, তুহিনের ঘের থেকে এস্কেভেটর উদ্ধার

Link Copied!

বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার (১০জুলাই) মামলার তদন্তে মোংলায় এসে জুলফিকার আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য, রামপাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান তুহিনের তেতুলিয়া এলাকার ট্যাংরামারীর মাছের ঘের থেকে ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি এস্কেভেটর/ভেকু (মাটি কাটা যন্ত্র) উদ্ধার করে রামপাল থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এর আগে গত বছর ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে হামলা, আর্থিক ক্ষতি ও চাঁদাবাজির একটি মামলা দায়ের করেন ঢাকার ব্যবসায়ী এফার রহমান।
মামলার বাদী ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে মোংলার স্থায়ী বন্দরের আমজাদ বেগ পেট্রোল পাম্প এলাকায় ঢাকা কলাবাগান এলাকার সি-আর রোডস্থ মেসার্স এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতুর জন্য আমদানিকৃত পাথর স্তুপ/সংরক্ষণ করে। ওই পাথর সরবরাহ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৬ টি (৫টি ট্রাক ও ১টি এস্কেভেটর) যানবহন ব্যবহার করতে থাকে। ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যার দিকে ওই ৬টি যানবাহন ৬/৭জন সন্ত্রাসী দিয়ে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় মোংলা পোর্ট পৌরসভার তৎকালীন মেয়র জুলফিকার আলী। পরবর্তীতে যানবাহন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ এরশাদ আলীর কাছ থেকে চাঁদা বাবদ ৫ লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। টাকা নিয়ে যানবাহন গুলো না ছেড়ে আবারো ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন মেয়র জুলফিকার আলী।
আটক যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য জুলফিকার আলীকে একাধিকবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও তিনি তাতে কোন সাড়া দেননি। প্রায় ৫ বছর পর ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকার বিজয় নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় মেসার্স এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের মালিকের ছেলে এফার রহমানের সাথে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের জন্য দেখা করেন মেয়র জুলফিকার আলী। সেখানেও যানবাহন গুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তিনি। এক পর্যায়ে জুলফিকার আলী ও তার সহযোগীরা এফার রহমানকে মারধর করে গুম ও খুন করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় এফ আর রহমান বাদী হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেন পল্টন থানা পুলিশের উপর। আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে বাদীপক্ষ ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না রাজি দিলে আদালত গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পিবিআইকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক এমদাদুল হক মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে মোংলায় আসেন এবং পরের দিন বুধবার (১০ জুলাই) অভিযান চালিয়ে জুলফিকার আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রামপাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান তুহিনের মৎস্য ঘের থেকে এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনের আটকে রাখা ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের এস্কেভেটরটি উদ্ধার করে রামপাল থানা পুলিশের হেফাজতে রাখেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর (ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ) পরিদর্শক এমদাদুল হক জানান, মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
মেয়র থাকাকালীন প্রভাব খাটিয়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জুলুম ও প্রতারণা করেছেন তিনি।তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসেম এন্ড সন্সের কাছে বিপুল পরিমান শ্রম মজুরি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পড়ে রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় ভূক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে পারে না বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে মোংলা পৌরসভার সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, আমদানী পণ্য খালাসের ষ্টিভিডর্রিং করা বাবদ আমি তাদের কাছে ১৮ লাখ টাকা পাই। টাকা না দিয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে।