ঢাকাFriday , 5 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অধ্যক্ষ সিরাজুলের নানা দুর্নীতি: কলেজের কোটিকোটি টাকা লোপাট

Link Copied!

উল্লাপাড়া এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুলে এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকদের সাথে অসৎ আচরণ,স্কুল ও কলেজের অর্থ আত্মসাৎ,চরিত্র হীনের অভিযোগ উঠেছে। উল্লাপাড়া, প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল ও কলেজ টি প্রতিষ্ঠীত। প্রতিষ্ঠা লগ্ন স্কুল হিসেবে প্ররিচালিত হয় পরবর্তিতে তৎকালিন সংসদ সদস্য মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মির্জা স্কুলটির সাথে কলেজ বর্ধিত করলে একমাত্র নারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লাপাড়ায় ব্যাপক সারা ফেলে। প্রথমে আব্দুর রহমান নামে একজন পাঠ ব্যাবসায়ি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে তার মার নামে হামিদা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে এই প্রতিষ্ঠান টি স্থাপন করেন। এর পর ঔ স্কুলের সচিন ঠাকুর প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলের দায়িত্ব নেন। এর পর অনেক প্রধান শিক্ষিকার হাল ধরলেও এরপর এসে হাল ধরেন মোজ্জাম্মেল হক। তিনি দীর্ঘদিন স্কুল এন্ড কলেজের দায়িত্ব নেবার পর অবসর জনিত কারনে, তৎকালীন সংসদ সদস্য এম আকবর আলী উল্লাপাড়া উপজেলার বর পাঙ্গাশী তরুনসঙ্গ কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম কে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি সমর্থক একজন অধ্যক্ষ পেয়ে হিটলারি কায়দায় স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা করেন। এতে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোশ দেখা দেয় এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শোকজ দিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অতংক সৃষ্টি করেন।
২০০৪ইং সালে হামিদা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ যোগদানের পর থেকেই সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। সৎচরিত্র ভাব দেখালেও পরবর্তীতে সে হয়ে উঠে নারী লোভী একজন মানুষ। যা অনেক শিক্ষক, কর্মচারী জানলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। কলেজের একজন নতুন শিক্ষিকার সাথে, ও একজন ছাত্রীর গার্জিয়ানের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে যা প্রায় অনেকেই জানেন। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
উল্লাপাড়া এমাত্র নারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হামিদা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের নাম পরিবর্তনে উল্লাপাড়া বাসী এটাকে কোনক্রমেই মেনে নিতে পারচেছ না। তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সিরাজুল ইসলাম এই দৃষ্টতা দেখিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন বলে অনেকে জনিয়েছেন। আর এই কারনে তার দুরদর্শিতা বেড়ে যায়। কাউকে কোনরুপ তোয়াক্কা না করে তার ইচ্ছেমত স্কুল কমিটি করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কেউ কিছুই বলতে পারে না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তার এই কর্মকান্ডে অনেকই মুখ খুলতে ভয় পায়।
সূত্র থেকে আরো জানা যায় সে একজন নারী লোভী, স্কুল ও কলেজের তার পছন্দ মত ম্যাডামদের কে নিয়ে সময় কাটান। যা তার প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও ছাত্রীরা জানেন। এর জন্য তিনি স্কুলের ভিতরে একটি কোনায় ভিআইপি রুম করেন, সেখানে সোফা, খাট, বাথরুম, এসি দিয়ে রুমটি সাজিয়েছেন। এই রুমেই তিনি ম্যাডামদের এনে ফুর্তি করেন। যা ধরা ছোয়ার বাইরে। তার সততা ও চরিত্র এমন ভাবে সে সবার কাছে তুলে ধরেছেন অনেকেই বিশ্বাস আনতে পারেনি। এই অপকর্মের দীর্ঘ তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সিরাজুল ইসলাম সরকারি সমবায় মন্ত্রনালয়ের পৌরসভার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত ২০ ডিসিমাল জায়গায় দখল করায় তার রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে না পারায় সমবায় অফিস তাকে অবৈধ ভাবে নামমাত্র টাকায় রেজিস্ট্রার করে দিতে পারে না। ভুয়া কাগজ পত্র তৈরি করে মন্ত্রনালয়ের সই জাল করে সমবায় অফিসার মারুফ হোসেন ও তার সহকারী জামিলের সহায়াতায় এই কর্মকান্ড ঘটিয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা হয়েছে সমবায়ের ৫ ডিসিমাল জায়গা প্রভাবশালী এইচ টি ইমাম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ দখল করে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে এই জায়গা উদ্ধার কারা সম্ভব না।
তাই ৫ডিসিমাল জায়গাসহ ২০ডিসিমাল জায়গা এইচ টি ইমাম স্কুল এন্ড কলেজ কে নাম মাত্র টাকায় বিক্রি করা যায়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে সমবায় ১৫০বছরের ঐতিহ্য পুরানো জায়গা সমবায় অফিস রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করেন। তিনি সরকারি জায়গা বিক্রি করতে পারেন কিনা তা জনগনের জানা নেই। এই ঘটনা নিয়ে উল্লাপাড়ায় বেশ অলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জানার পর তৎক্ষনাত সমবায় অফিসার মারুফ ও অফিস সহকারী জামিল হোসেন কে বদলি করে দেন। যা তদন্ত চলমান।
আরও উল্লেখ করা যায় সিরাজুল ইসলামের এই জায়গা সমবায় অফিসকে ৬০ লাখ টাকা ক্রয় করেন। চতুর সিরাজুল ইসলাম স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীর ভবিষৎ তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) টাকা এক যোগে স্থানীয় ইউসিবি ব্যাংক থেকে উত্তলন করেন। তার ভয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী রা জানান। শুধু জায়গা ক্রয় করেই ক্ষান্ত হয়নি তিনি তরি ঘড়ি করে উক্ত জায়গায় মাটি ভরাটের নামে হরিলুট করে চলছে। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করতে পারছে না। তার হাত বড় লম্বা সিরাজুল ইসলাম ৬০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ক্রয় করে স্কুলের সুনাম অর্জন করেছে বলে প্রচার করলেও এর আড়ালে সে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে বলে একটি সুত্রে থেকে জানা গেছে। ভুয়া বিল ভাউচার, ভুয়া তৈরি করে এই টাকা স্কুল এন্ড কলেজের ফান্ড থেকে তুলে নিচ্ছে। নিজস্ব কিছু শিক্ষকদের সাথে নিয়ে এই কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য শিক্ষকদের কোন ঠাসা করে রেখেছে। সিরাজুল ইসলামের সেচ্ছাচারিতা,সৈরাচারিতা, একক সিদ্ধান্ত ও কঠোর মনোভাব বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ থাকলেও কিছুই হয়না বলে তিনি সব করে বেড়াচ্ছে।
তিনি নিজে প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা স্কাউটের কমিশনার পদে উল্লাপাড়া উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি পদে রয়েছে। এছাড়া ও সে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে ম্যানেস করে ৪ বার জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। এটা নিয়েও শিক্ষক সমিতির শিক্ষক অনেক আলোচনা সমালোচনা করেন। যা তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে।
অনেকেই জানিয়েছেন তাদের নাম প্রকাশ হলে সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেন। এই প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক কে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।৩ বছর চাকুরী আছে এই সুবাদে তিনি এই সব জঘন্য কাজ করে যচ্ছেন। তিনি ভাল, সৎচিরত্রবান, অর্থ লোভী না, হিসেবে জানলেও এখন তার মুখোশ খুলে চলেছে। এলাকাবাসী উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে এর সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছেন।
এসব বিষয়ে সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান এই সকল অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা, বানোয়াট। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ সব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।