ঢাকাWednesday , 3 July 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহবাগে কোটা আন্দোলনকারীদের অবরোধ

Link Copied!

বিশাল মিছিল নিয়ে ব্যাপক ছাত্রের সমন্বয়ে আবার শাহবাগ অবরোধ করেছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা। এতে শাহবাগে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে মিছিল শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক প্রদক্ষিণ করে ভিসি চত্বর-টিএসসি ও দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্টের সামনে দিয়ে বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এসময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তারা ‘কোটা না মেধা?’ ‘মেধা মেধা, হাইকোর্টের রায় মানি না মানবো না’, ‘কোটা বাতিল করো, বাতিল করো’, ‘ছাত্রসমাজ গড়বে দেশ, মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ এমন স্লোগান দেন।
শাহবাগ অবরোধের সময় পুলিশের সাথে হালকা হাতাহাতি হতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। তবে শেষ পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।
টানা আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা গতকাল মঙ্গলবারও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আজও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়েছে।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ চলমান থাকবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না। সরকার তাহলে আমাদের রিকশা কিনে দিক, নয়তো কোটা সংস্কার করুক। কোটা সংস্কার না করে আমরা হলে ফিরব না।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান পরিচয় দেওয়া ফারাবি রহমান শ্রাবণ বলেন, কোটা সাধারণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম। এটি অযৌক্তিক। মুক্তিযোদ্ধারা এই বৈষম্য চায়নি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানরা এগিয়ে আসুন। বিবেকের উত্তর শুনুন।
আরেক শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, কোটার মতো একটি চরম বৈষম্য আমাদের ওপর পুনরায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বৈষম্য আমাদের পূর্বপুরুষরাও মানেননি, আমরাও মানব না। স্বাধীন দেশে বৈষম্যের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বৈষম্যের শিকারই যদি হব, তাহলে যারা আজ বৈষম্য তৈরি করছে তাদের পিতারাই কেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন?
শিক্ষার্থী সারজিস আলম বলেন, যে কোটা প্রথা পুনরায় চালু করা হয়েছে, তার মাধ্যমে ছাত্র সমাজের হৃদপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে না, আমরা বৈষম্যের বিপক্ষে।
দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওইসব গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা বাতিল করা হয়।
তবে গত ৫ জুন ২০১৮ সালের জারিকৃত পরিপত্রটি এক আদেশে বাতিল করেন হাইকোর্ট। এরপর আবারো ক্যাম্পাসগুলোতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।