খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামরুল বিশ্বাস নামে এক যুবককে মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী আবু সাঈদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। গুরুতর আহত হত-দরিদ্র কামরুল বিশ্বাস ঐ এলাকার মৃত্য ফজর আলী বিশ্বাসের ছেলে এবং হামলাকারী আবু সাঈদ বিশ্বাস বরুনা এলাকার মতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। এদিকে এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে গড়িমসি ও স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, আহত কামরুল বিশ্বাস ধামালিয়া এলাকায় গরু কেনা-বেচা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। গত ১৪ জুন বিকেলে ধামালিয়া বাজারের হাকিম ইলেকট্রনিক্সের দোকানের মধ্যে ঐ দোকানের মালিক আবু সাঈদ বিশ্বাসের সাথে গরু কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে বাক বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা স্ক্র ড্রাইভার দিয়ে কামরুল বিশ্বাসকে আঘাত করেন আবু সাঈদ বিশ্বাস। পরে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে এলাকার একটি বেসরকারী ক্লিনিকে চিকিৎসা করান তাকে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুইদিন পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে আহত কামরুল বিশ্বাসের স্ত্রী নারগীস বেগম অভিযোগ করে বলেন হামলাকারী আবু সাঈদ বিশ্বাস প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করেছেন। অথচ থানা পুলিশ আমাদের মামলা গ্রহণ করছেন না। কান্না জড়িত কন্ঠে স্বামীকে বাচাঁনোর আকুতি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে ধামালিয়া বাজারে গেলে স্থানীয়রা এবং বাজার কমিটির সভাপতির সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন গুরুতর আহত কামরুল বিশ্বাসকে যারা ঐ সময় উদ্ধার করেছে তাদের নামে আবু সাঈদ মিথ্যা মামলা করেছেন যেটির কোন ভিত্তি নেই। ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে সমাধের জন্য দুই পক্ষের সাথেই কথা বলেছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বিশ্বাস। কিন্তু হামলাকারী আবু সাঈদ বিশ্বাস প্রভাবশালী হওয়ায় কারও কথা তোয়াক্কা না করেই আহত কামরুল বিশ্বাসসহ স্থানীয় কিছু নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করেন। অপর দিকে আহত কামরুল বিশ্বাসের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম মামলা করতে কয়েক দফা থানায় গেলেও ওসি নানা অজুহাত দেখিয়ে মামলা নেননি বলে শুনেছি। যেটা খুবই দুঃখ জনক ঘটনা। আমি এই ঘটনার তদন্তপূর্বক সঠিক বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
ঘটনার বিষয়ে হামলাকারী আবু সাঈদ বিশ্বাসের বাড়িতে গেলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা মুঠোফোনে বলেন, যেহেতু এই ঘটনায় আবু সাঈদ বিশ্বাস একটি মামলা করেছে এখন কামরুল বিশ্বাসের পরিবার কাউন্টার মামলা করতে চাচ্ছে। তদন্ত করে যদি প্রকৃতপক্ষে কামকরুল বিশ্বাস ইঞ্জুর হয়ে থাকে তাহলে মামলা রুজু করা হবে।

